
ইবি রিপোর্ট
২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি কার্যকরভাবে চালু না থাকা এবং বিদেশ থেকে ভ্যাকসিন আমদানিতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে দেশকে বড় মূল্য দিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে গাফিলতি এবং ওপেন টেন্ডার ব্যবস্থার অজুহাতে বিদেশ থেকে ভ্যাকসিন আমদানিতে বিলম্বের কারণে অনেক শিশুর প্রাণহানি হয়েছে। এর নির্মম পরিণতিতে বহু মায়ের বুক খালি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার ঢাকার মহাখালীর কড়াইলে টিএন্ডটি খেলার মাঠে ‘দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রমে দীর্ঘ সময়ের গাফিলতির কারণে প্রায় এক কোটি ৮৫ লাখ শিশুর মধ্যে প্রায় এক হাজার শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি শিশুর মৃত্যু সরকারের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে তিনি লজ্জার বিষয় বলেও উল্লেখ করেন।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হামের টিকাদান কর্মসূচিতে দীর্ঘ চার বছর ধরে গাফিলতি ও বিলম্ব হয়েছে। এর ফলে বহু শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৫ এপ্রিল থেকে তিন ধাপে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়। সর্বশেষ গত ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী এই কর্মসূচি আরও জোরদার করা হয়েছে।
এর আওতায় এখন পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে ক্যাম্পেইন থেকে বাদ পড়া আরও ৩৪ লাখ শিশুকে টিকাদানের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাদ পড়া শিশুদেরও টিকার আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে কোনো শিশুই যেন টিকাদান কর্মসূচির বাইরে না থাকে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ এই টিকাদান কর্মসূচি আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।
জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য ১০ লাখ টিকা সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এসব টিকা নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের দেওয়ার কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দেশব্যাপী বড় পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিশুদের হামসহ বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে টিকাদান কর্মসূচি নিয়মিত ও কার্যকরভাবে চালু রাখা জরুরি।
দীর্ঘ সময় টিকাদান কার্যক্রমে কোনো ধরনের ঘাটতি তৈরি হলে তার প্রভাব শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর পড়তে পারে। তাই নিয়মিত কর্মসূচির পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেশের শিশুদের টিকাদানের আওতা আরও বাড়ানো এবং বাদ পড়া শিশুদের দ্রুত কর্মসূচির আওতায় আনার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
‘দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. আ.ন. ম. বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপপ্রতিনিধি ডা. রাজেশ নারওয়ালসহ স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশেষ এই কর্মসূচির মাধ্যমে বাদ পড়া শিশুদের টিকাদানের আওতায় আনার পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমও চালু রাখা হবে। এর মাধ্যমে শিশুদের হাম-রুবেলাসহ প্রতিরোধযোগ্য বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য