
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, স্বৈরাচারী আমলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা নিজেদের চরিত্র ও মানসিকতা পরিবর্তন করতে না পারলে সরকারি চাকরিতে থাকার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সুশাসন নিশ্চিতকরণসংক্রান্ত সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পর্যটনমন্ত্রী।
‘চরিত্র পরিবর্তন করতে না পারলে চাকরি করার দরকার নেই’
সভায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা প্রসঙ্গে রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, অতীতে দেশে কী হয়েছে, তা সবারই জানা। স্বৈরাচারী আমলে যারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাদের নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসররা যদি নিজেদের চরিত্র পরিবর্তন করতে না পারে, তাহলে তাদের আর চাকরি করার প্রয়োজন নেই।
মন্ত্রী বলেন, অতীতের ভুল ও ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সরকারের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।
উন্নয়নে প্রশাসন-জনপ্রতিনিধির সমন্বয়ের আহ্বান
জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা একসঙ্গে কাজ না করলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, অতীতের ভুলগুলো পেছনে ফেলে নতুনভাবে কাজ শুরু করতে হবে। গত ২০ বছরে দেশের যে ক্ষতি হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে তা পূরণ করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। এখন আর পেছনে তাকিয়ে থাকার সুযোগ নেই।
মাদক, জুয়া ও ধর্ষণে ‘জিরো টলারেন্স’
সভায় মাদক, জুয়া ও ধর্ষণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, এসব অপরাধের বিস্তার রোধে প্রয়োজনে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে।
মাদকবিরোধী অভিযানে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কোনো অপরাধী আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে গেলে তা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। জামিনে গিয়ে অপরাধীরা যাতে পুনরায় অপরাধে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রয়োজনে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথাও বলেন মন্ত্রী।
ময়মনসিংহের উন্নয়ন পরিকল্পনা
সমন্বয় সভায় ময়মনসিংহ বিভাগের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়। সভায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পিপিপি বা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে প্রশস্ত করার উদ্যোগের কথা জানানো হয়।
এ ছাড়া শম্ভুগঞ্জ বাজারের সার গুদাম মেরামত, বিভাগীয় শহরের বিভিন্ন সড়ক সম্প্রসারণ এবং ময়মনসিংহের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়।
মন্ত্রী জানান, এসব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে ময়মনসিংহ অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
৩ লাখ যুবকের বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ
দেশের বেকার ও কর্মপ্রত্যাশী যুবকদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে সভায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হয়। মন্ত্রী জানান, চলতি বছরের মধ্যেই সরকার অত্যন্ত স্বল্প খরচে তিন লাখ যুবকের বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে।
একই সঙ্গে অসচ্ছল পরিবারের ১০ হাজার যুবককে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর মাধ্যমে দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন যারা
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সমন্বয় সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান। সভায় ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, জেলার ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ, ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য কামরুল হাসান, ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ এবং ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান।
এ ছাড়া ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনুজ্জামান রোকনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সমন্বয় সভা শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী। এ সময় সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পাঠকের মন্তব্য