![]()
ইবি রিপোর্ট
পরীক্ষায় অংশ নিলেই পাস কিংবা মোটামুটি লিখলেই জিপিএ-৫ পাওয়া যাবে—শিক্ষা সম্পর্কে এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (যুব কর্মসংস্থান) সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহ। তাঁর মতে, পড়াশোনার মান উন্নত না করে শুধু পাসের হার ও জিপিএ-৫-এর সংখ্যা বাড়িয়ে শিক্ষার অগ্রগতি তুলে ধরার সময় শেষ হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন তিনি। সেখানে বিগত কয়েক বছরের এইচএসসি পরীক্ষার পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনামূলক পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন।
সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহর পোস্টে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৯৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ওই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ লাখ ৮৯ হাজার শিক্ষার্থী।
২০২২ সালে পাসের হার কমে দাঁড়ায় ৮৪ দশমিক ৩১ শতাংশে। সে বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭৬ হাজার। পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৯২ হাজার শিক্ষার্থী।
তাঁর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এইচএসসিতে পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ওই বছর জিপিএ-৫ অর্জন করেন ১ লাখ ৪৫ হাজার শিক্ষার্থী।
২০২৫ সালে পাসের হার আরও কমে ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশে নেমে আসে। সে বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার শিক্ষার্থী। আর ২০২৬ সালে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে হয়েছে ৪০ হাজার।
বিগত ছয় বছরের ফলাফলের তথ্য তুলে ধরে সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহ শিক্ষার মান নিয়ে নিজের অবস্থান জানান। তিনি লেখেন, ‘অর্থাৎ, পড়াশোনার মান না বাড়িয়ে শুধু পাসের হার এবং জিপিএ-৫ এর বন্যা দেখিয়ে শিক্ষার উন্নয়ন দেখানোর দিন আর নেই। পরীক্ষা দিলেই পাস এবং মোটামুটি লিখলেই জিপিএ-ফাইভ, সে ধারণা থেকে বের হয়ে আসা উচিত সবারই।’
তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার অগ্রগতি মূল্যায়নে শুধু পাসের হার কিংবা সর্বোচ্চ গ্রেড পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনা না করে পড়াশোনার মানের দিকেও নজর দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের তুলনা সামনে এনে তিনি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও পরীক্ষার ফল নিয়ে প্রচলিত ধারণা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
পাঠকের মন্তব্য