![]()
ইবি রিপোর্ট
নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী আগামীকাল রোববার থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের বর্ধিত বেতন দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। তিন মাসের বকেয়া অর্থসহ নতুন কাঠামোর বেতন পাওয়ার কথা থাকলেও বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ না হওয়ায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্ধারিত সময়ে বর্ধিত অর্থ পাচ্ছেন না।
যাদের নতুন বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি, তাদের আপাতত আগের বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে। পরে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বর্ধিত বেতন ও বকেয়া অর্থ সমন্বয় করে পরিশোধ করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে এখনো প্রশাসনিক ও কারিগরি কয়েকটি জটিলতা রয়ে গেছে। দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, ৮ লাখ পেনশনভোগী এবং ৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের কাজ এখনো শেষ হয়নি।
বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান, বাড়িভাড়া ভাতা এবং পদোন্নতির পর আর্থিক সুবিধা হিসাব করা নিয়ে একাধিক অসংগতি দেখা দিয়েছে। এসব বিষয় সমাধান না হওয়ায় অনেকের নতুন বেতন কত হবে, তা চূড়ান্ত করতে সময় লাগছে।
এ ছাড়া সরকারের সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি আইবাস++-এর কারিগরি জটিলতাও বেতন নির্ধারণ ও পরিশোধের প্রক্রিয়ায় বাধা তৈরি করছে।
নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে দেখা দেওয়া সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হলেও এখন পর্যন্ত সব সমস্যার সমাধান হয়নি।
একাধিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বেতনসংক্রান্ত জটিলতা ১ নভেম্বরের আগে সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানা গেছে। ফলে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলেও শুরুতেই সব সরকারি কর্মচারী একই সময়ে বর্ধিত বেতন পাচ্ছেন না।
অর্থ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন তৈরি ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতার অভাব থেকে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে দেখা দেওয়া অসংগতিগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।