ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশে শিশুস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে হামের সংক্রমণ। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, দীর্ঘ হচ্ছে হাসপাতালের শয্যার তালিকা, আর স্বজন হারানোর বেদনায় ভারী হয়ে উঠছে অসংখ্য পরিবারের জীবন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৭৪ শিশু।
শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু না হলেও হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৭৭ শিশু। অন্যদিকে, পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে আরও ৯৩ শিশু। সব মিলিয়ে গত তিন মাসে হাম ও হামের উপসর্গজনিত কারণে মোট ৬৭০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, সচেতনতার অভাব এবং দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। ফলে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ৯৬ শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৭৮ জন। অর্থাৎ মোট আক্রান্ত ও সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৭৪ জনে।
সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৭২ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে ৮৯৩ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯০ হাজার ৯৮২ জন। অন্যদিকে, পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৮৬৯ জনে পৌঁছেছে।
এই সময়ের মধ্যে মোট ৭৫ হাজার ১৫৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭১ হাজার ৩৯৬ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকাদান, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা গেলে মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তারা অভিভাবকদের শিশুদের টিকাদান সম্পন্ন করার পাশাপাশি জ্বর, সর্দি, কাশি বা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ। প্রতিটি শিশুর সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ এবং স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি হয়ে উঠেছে।