ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে নির্বাচন, গণভোট, দুর্নীতি ও বিচারহীনতার প্রশ্ন। এমন এক প্রেক্ষাপটে নারায়ণগঞ্জে আয়োজিত একটি কর্মী সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন।
শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণভোট, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং বিচারহীনতার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে জনগণের মতামতকে সম্মান করতে হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়কে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারি দল প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিলেও নীরবে ‘না’ ভোটের প্রচারণা চালিয়েছে এবং পরে ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের মনে রাখতে হবে, ২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহের কারণেই ২০২৬ সালের নির্বাচন সম্ভব হয়েছে। যারা আন্দোলনে আহত হয়েছেন কিংবা জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রতি অবহেলা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে।”
রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবক্ষয়ের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, সংসদে বিরোধী মতকে অবজ্ঞা করার যে ধারা অতীতে শুরু হয়েছিল, সেটি এখনো বন্ধ হয়নি। তার মতে, গণতান্ত্রিক চর্চায় পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সমাবেশে দুর্নীতি, ঘুষ এবং চাঁদাবাজির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমানের দাবি, জনগণ এখনো দুর্নীতি ও অনিয়মের বোঝা বহন করছে এবং এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, কথার সঙ্গে কাজের সামঞ্জস্য না থাকলে জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলার প্রসঙ্গও তুলে আনেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে অতীতের বিভিন্ন আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সমাবেশে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেওয়া হয়। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে সাবেক ইসলামী ছাত্রশিবির সভাপতি মাওলানা আব্দুল জব্বারের নাম ঘোষণা করেন দলটির আমির।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রশ্নে এমন বক্তব্যগুলো জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দেশের মানুষ এখন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় তাকিয়ে আছে।