![]()
ইবি রিপোর্ট
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন শেষে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। কূপটিতে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর এখন এর মজুত ও উত্তোলনযোগ্য পরিমাণ নির্ধারণে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, নতুন এই কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বর্তমানে কূপটিতে ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) চলছে। এই পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কূপে থাকা গ্যাসের মজুত এবং উত্তোলনযোগ্য পরিমাণ সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রকল্প পরিচালক বলেন, খননকাজ শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার কূপে স্থাপন করা পাইপের মুখে আগুন জ্বালিয়ে গ্যাসের উপস্থিতি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। ডিএসটি পরীক্ষা শেষ হতে আরও চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে। এরপর কূপটিতে মোট কত পরিমাণ গ্যাস মজুত রয়েছে, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে কূপটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই পরিমাণ চূড়ান্তভাবে নির্ধারণের জন্য চলমান পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া প্রয়োজন।
এর আগে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) কূপটিতে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার কথা জানায়। গত ২৮ জুলাই থেকে সুন্দলপুর-৪ কূপের খননকাজ শুরু হয়েছিল।
বাপেক্স সূত্রে জানা যায়, ডিরেকশনাল ওয়েল পদ্ধতিতে এমডব্লিউডি প্রযুক্তি ব্যবহার করে কূপটি ১ হাজার ৫৭৮ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। খননের সময় ১ হাজার ৪২০ থেকে ১ হাজার ৪৬০ মিটার গভীরতার স্তরে গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
সুন্দলপুর গ্যাসক্ষেত্রের আওতায় এর আগে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর এলাকায় সুন্দলপুর-১, সুন্দলপুর-২ ও সুন্দলপুর-৩ নম্বর কূপ খনন করা হয়েছিল। এসব কূপের পর একই ভূগর্ভস্থ গ্যাসক্ষেত্র কাঠামোর অংশ হিসেবে সেনবাগে নতুন কূপটি খনন করা হয়।
নতুন কূপটির অবস্থান সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে হলেও এটি একই ভূগর্ভস্থ গ্যাসক্ষেত্র কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। এ কারণে কূপটির নাম রাখা হয়েছে সুন্দলপুর-৪।
বর্তমানে কূপটিতে ড্রিল স্টেম টেস্টের মাধ্যমে গ্যাসের মজুত ও উত্তোলনযোগ্য পরিমাণ যাচাই করা হচ্ছে। আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কূপটির সম্ভাব্য উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে আরও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, দৈনিক প্রায় ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য