![]()
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তিটি ডিজিটালভাবে স্বাক্ষর করেছেন Donald Trump এবং Masoud Pezeshkian। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর দুই দেশের প্রেসিডেন্ট পর্যায়ে এটি প্রথম আনুষ্ঠানিক চুক্তি বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। (Reuters)
চুক্তির মূল বিষয়গুলো হলো—
- বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো।
- যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী শান্তি চুক্তির জন্য নতুন আলোচনা শুরু করা।
- লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট ফ্রন্টগুলোতে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখা।
- ইরানের ওপর কিছু অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং অবরুদ্ধ সম্পদ অবমুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করা।
- Strait of Hormuz পুনরায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া। (Reuters)
তবে চুক্তি উদযাপনের মধ্যেই ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান চুক্তি লঙ্ঘন করলে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক হামলা চালাতে পারে। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে তিনি বলেন, “তারা যদি চুক্তি না মানে, তাহলে আমরা আবারও বোমা হামলা চালাব।” একই সঙ্গে তিনি ইরানিদের “বুদ্ধিমান মানুষ” বলেও উল্লেখ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ তৈরি করবে। (Reuters)
এদিকে ট্রাম্প তার আগের কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছেন বলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আগে তিনি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণ ধ্বংস করার কথা বললেও এখন স্বীকার করেছেন যে ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা থাকা “অন্যায্য নয়”। চুক্তির বর্তমান কাঠামোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। (Reuters)
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ও খাদ্যবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়। নতুন চুক্তির ফলে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ কমার আশা করা হচ্ছে। (The Guardian)
তবে এটি এখনো একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক। আগামী ৬০ দিনের আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে চূড়ান্ত সমঝোতা না হলে চুক্তিটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। (KCBX)
পাঠকের মন্তব্য