![]()
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকটি কার্যকর হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। চুক্তিতে ইরান স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন বা তৈরি করবে না এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম লঘু করবে, যদিও সেটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস বা বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে এবং ধাপে ধাপে ইরানের অবরুদ্ধ তহবিল মুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে।
চুক্তিতে ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্ভাব্য তহবিল গঠনের বিষয়ও উল্লেখ রয়েছে, যদিও এতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি আর্থিক দায় নেই। পাশাপাশি ইরানকে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে বড় ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা তাদের অর্থনৈতিক অবস্থাকে দ্রুত শক্তিশালী করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালিতে ৬০ দিনের জন্য অবাধ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করবে।
অন্যদিকে লেবাননে সামরিক সংঘাত বন্ধ এবং দেশটির ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার বিষয়টিও চুক্তিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা ইরানকে তুলনামূলকভাবে বেশি অর্থনৈতিক সুবিধা দিচ্ছে, কারণ যুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি সীমিত করা, যা এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। চুক্তিটি মূলত একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা, যেখানে পরবর্তী ৬০ দিনের আলোচনা ভবিষ্যৎ স্থায়ী শান্তি চুক্তির দিক নির্ধারণ করবে।
পাঠকের মন্তব্য