![]()
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ, সংস্কারমুখী এবং ব্যবসাবান্ধব বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করেছে Bangladesh Chamber of Industries (BCI)। বাজেটকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ)।
শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার মতো চ্যালেঞ্জের মধ্যে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারের সংস্কারমুখী উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাত, করব্যবস্থা এবং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে শিল্প ও ব্যবসা খাতের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে বিসিআই।
বিসিআইর মতে, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় ১০টি অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ এবং একই সঙ্গে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি ও ব্লু-ইকোনমিকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হবে। এছাড়া বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) উন্নয়ন এবং করের আওতা সম্প্রসারণের প্রস্তাবগুলোও ব্যবসাবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রপ্তানি বহুমুখীকরণের বিষয়ে বিসিআই সভাপতি বলেন, সরকার যেসব খাতকে রপ্তানি সম্প্রসারণের জন্য গুরুত্ব দিচ্ছে, তার সঙ্গে হালাল পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিকেও অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। তার মতে, বিশ্ববাজারে হালাল পণ্যের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে এবং বাংলাদেশ এই খাতে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসা সহজীকরণের লক্ষ্যে বাজেটে প্রস্তাবিত ‘ডিরেগুলেশন’ বা অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ একটি সাহসী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। তবে এসব উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।
বিসিআই মনে করে, প্রায় ১৯ কোটি মানুষের একটি দেশের অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণ ও সব খাতের বিকাশ নিশ্চিত করতে বড় আকারের বাজেট প্রয়োজন। তবে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতাকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে সংগঠনটি। এজন্য বাজেট কার্যকরের শুরু থেকেই সুনির্দিষ্ট সময়সূচি, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এবং অংশীজনদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বাজেটের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য বিসিআই সরকারকে আটটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, ব্যাংকঋণের সুদের হার কমানো, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, রপ্তানি বাজার ও পণ্যের বহুমুখীকরণ, বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, নতুন ও নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা বৃদ্ধি এবং ব্যবসা সহজীকরণে ডিরেগুলেশন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা।
সংগঠনটির মতে, এসব উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী হবে।
পাঠকের মন্তব্য