![]()
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, ব্যাংকের গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও আর্থিক উপকরণ রয়েছে এবং প্রয়োজনে জরুরি তারল্য সহায়তা (ইমার্জেন্সি লিকুইডিটি সাপোর্ট) প্রদান করা হবে, যাতে আমানতকারীরা যেকোনো সময় তাদের অর্থ উত্তোলন করতে পারেন।
শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকিং খাত নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
গভর্নর জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই কিছু বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যার ফলে ইসলামী ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে। তিনি বলেন, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনার প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, ঈদের আগে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদত্যাগ করায় বোর্ডের কার্যক্রম সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে একজন সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, এর বাইরে ব্যাংকের প্রশাসনিক কার্যক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেনি। পদোন্নতি, বদলি কিংবা বোনাস সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্তেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা ছিল না।
ব্যাংকটির আর্থিক সূচক সম্পর্কে তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ইসলামী ব্যাংকের ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) ছিল ৯৩ শতাংশ, যা বর্তমানে বেড়ে ৯৭ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। অথচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত সীমা ৯২ শতাংশ। এ কারণে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনাকে অনুপাত কমিয়ে আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে গভর্নর বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় তিনি এমন একটি খাত পেয়েছেন যেখানে বিপুল পরিমাণ অর্থ অনিয়মের মাধ্যমে বেরিয়ে গেছে এবং খেলাপি ঋণের হার ৩৫ থেকে ৩৬ শতাংশে পৌঁছেছিল। তার ভাষায়, ব্যাংকিং খাতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আমানত কার্যত হারিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তাই প্রথম লক্ষ্য ছিল খাতটিকে স্থিতিশীল করা এবং পরবর্তীতে পুনঃমূলধনীকরণের মাধ্যমে শক্তিশালী করা।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ PLC এবং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো নানা গুজব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাস্তবে কোনো ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ এবং নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগে কিছু সময় লাগলেও বর্তমানে বোর্ডের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে।
গভর্নর আরও জানান, ইসলামী ধারার পাঁচটি ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার (সিবিএস) সমন্বয়ের বিষয়টি বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে।
এদিকে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) খাত নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। গভর্নরের ভাষ্য, আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে কয়েকটি সমস্যাগ্রস্ত এনবিএফআই পুনর্গঠনের কার্যক্রম শুরু হবে। এর ফলে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে আটকে থাকা অনেক আমানতকারী তাদের অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধাপে ধাপে সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ করছে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
পাঠকের মন্তব্য