![]()
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
স্মার্টফোনের পরিচিত গণ্ডি ছাড়িয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও কানেক্টেড প্রযুক্তিনির্ভর বড় একটি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনা জানিয়েছে অনার বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দেশের বাজারে প্রথমবারের মতো প্রদর্শন করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির রোবট ফোন। উন্মোচন করা হয়েছে নতুন ব্র্যান্ড লোগোও।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ‘অনার কানেক্ট’ অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রযুক্তি পণ্যের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, স্মার্টফোনের পাশাপাশি ট্যাবলেট, পরিধানযোগ্য ডিভাইস, ল্যাপটপ ও টিভিকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে অনারের।
অনুষ্ঠানে অনারের নতুন স্লোগান ‘ডেয়ার টু বি’-এর পেছনের ভাবনাও তুলে ধরা হয়। প্রযুক্তিকে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সহজ ও ব্যবহারবান্ধব করে তোলাই এই দর্শনের মূল বিষয় বলে জানানো হয়।
এ সময় ঘোষণা দেওয়া হয়, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া যাবে অনার ম্যাজিক৯ প্রো। চলতি বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববাজারে উন্মোচিত এই ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনটি সিনেমা ক্যামেরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যারির সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অনার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের জিটিএম পরিচালক লিও পেই বলেন, ‘বাংলাদেশে অনার স্মার্টফোন ব্র্যান্ড হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল, তবে ফোন এখন আমাদের বিস্তৃত স্মার্ট ডিভাইস ইকোসিস্টেমের একটি অংশমাত্র। আমাদের ফোন, ট্যাবলেট, পরিধানযোগ্য ডিভাইস, ল্যাপটপ ও টিভিগুলো এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে এগুলো একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্যবহারকারীর প্রয়োজন বুঝে কাজ করতে পারে।’
অনার বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার ল্যাং গুও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ এমন ধরণের প্রযুক্তি চায়, যা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মানিয়ে যায়। ধীরে ধীরে অভ্যস্থ হতে হয় এমন প্রযুক্তি নয়। রোবট ফোন অনারের বৃহৎ ইকোসিস্টেমের একটি অংশমাত্র। সামনে আরও বেশ কিছু সামনে আনা হবে।’
স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘অনার বর্তমানে বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে ডিভাইস উৎপাদন করছে, এবং আমাদের উৎপাদন মান বিশ্বের সেরা কারখানাগুলোর সমমানের। আমরা ধাপে ধাপে অনারের অন্যান্য ডিভাইসও বাংলাদেশের বাজারে নিয়ে আসব।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৯৮ সাল থেকে আমরা পার্টনারদের মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবা দিয়ে আসছি এবং এ পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ ডিভাইস গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। আমরা গ্রাহকদের পরামর্শ ও সমালোচনাকে গুরুত্ব দিই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের পরিবর্তন করে এগিয়ে যেতে চাই।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা রায়হান রাফি ও সিনেমাটোগ্রাফার সুমন সরকার। তারা অ্যারি প্রযুক্তি নিয়ে একটি সেশন পরিচালনা করেন।
রোবট ফোন হাতে নিয়ে রায়হান রাফি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, এটা দিয়ে আমি একটা এক্সপেরিমেন্টাল শর্ট ফিল্ম বানাতে পারব। ফিল্ম ক্যামেরা অনেক বড় হওয়ায় অনেক শট আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী নিতে পারি না। গাড়ির ভেতরে শট নেওয়া থেকে শুরু করে আরও অনেক কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই ক্যামেরার একটা সুবিধা আমার কাছে মনে হয়েছে, যেকোনো জায়গায় এটি রেখে আমরা শুট করতে পারব। ক্যামেরার মুভমেন্টও বেশ ইন্টারেস্টিং। কেউ দৌড়ালে, সিনেমাটোগ্রাফারকে আর তার সঙ্গে দৌড়াতে হবে না, ক্যামেরা নিজে থেকেই তা ক্যাপচার করে নেবে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অনার বাংলাদেশের হেড অব বিজনেস আবদুল্লাহ আল মামুন এবং ডিরেক্টর ও হেড অব প্রোডাক্ট অ্যান্ড মার্কেটিং সৈয়দ মো. বদরুল আরেফিন।
অতিথিদের জন্য আয়োজনে ছিল বিশেষ এক্সপেরিয়েন্স জোন। সেখানে অনারের বিভিন্ন ইকোসিস্টেম পণ্য সরাসরি ব্যবহারের সুযোগ পান তারা। রোবট ফোনের পাশাপাশি প্রদর্শন করা হয় নতুন ফোল্ডেবল স্মার্টফোন ম্যাজিক ভি৬। ছিল বিভিন্ন স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ইয়ারবাড, হেডফোন ও স্মার্টওয়াচ।
এ ছাড়া অনারের নতুন ল্যাপটপ ও টিভিও প্রদর্শন করা হয়। বাংলাদেশে এই দুই পণ্যশ্রেণিতে বড় পরিসরে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ল্যাপটপে একাধিক সিরিজের পণ্য এবং টিভির ক্ষেত্রে ৩২ থেকে ১০০ ইঞ্চি পর্যন্ত বিভিন্ন মডেল আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব টিভিতে আধুনিক ডিসপ্লে প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য