![]()
ইরানকে ঘিরে হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত নতুন অর্থনৈতিক ও কৌশলগত পরিকল্পনার কথা সামনে এসেছে, যেখানে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি এবং অন্যান্য ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে বলা হচ্ছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সমুদ্রতলের ফাইবার-অপটিক কেবল ব্যবহারের ওপর ফি আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইরান ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কেবলগুলো আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় ইরান এগুলোকে সম্ভাব্য রাজস্ব আয়ের উৎস হিসেবে দেখতে শুরু করেছে। বিশেষ করে কঠোর নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা অর্থনীতিতে নতুন আয়ের পথ খোঁজার কৌশল হিসেবে বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরান চাইছে পারস্য উপসাগরকে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা সাবমেরিন কেবল ব্যবহারের জন্য বিদেশি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে বার্ষিক লাইসেন্স ফি আদায় করতে। একই সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কাজে স্থানীয় কোম্পানিগুলোর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ থাকলে অতিরিক্ত রাজস্ব অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এই প্রস্তাব কেবল অর্থনৈতিক দিকেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, প্রযুক্তি জায়ান্ট যেমন Amazon এবং Meta-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইরানের আইন মেনে চলার শর্তও আরোপ করা হতে পারে, যদি তারা এই অবকাঠামো ব্যবহার করতে চায়।
অন্যদিকে আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি ও সেখানে স্থাপিত অবকাঠামোর ওপর ইরানের পূর্ণ সার্বভৌম অধিকার রয়েছে, এবং আন্তর্জাতিক চলাচলের অধিকার সেই সার্বভৌমত্বকে সীমিত করে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের আলোচনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান হরমুজ প্রণালিকে শুধু কৌশলগত জলপথ নয়, বরং একটি অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহারের চিন্তা করছে। কারণ এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাত ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান এই জলপথে নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর বিভিন্ন কৌশল নিয়ে ভাবছে, যার মধ্যে জাহাজ চলাচলের ওপর ফি আরোপের ধারণাও অন্তর্ভুক্ত।
পাঠকের মন্তব্য