
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ভারতের কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিসহ অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। তবে নিহতদের সবাই বাংলাদেশি কি না, তা নিয়ে ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশের বরাত দিয়ে দ্য হিন্দু ও এএনআই জানিয়েছে, নিহত নয়জনই বাংলাদেশি নাগরিক। তারা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন। তবে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি ছাড়াও ভারতের মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের নাগরিক রয়েছেন।
বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে নিউ মার্কেটের কাছে ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ওই হোটেলে আগুনের সূত্রপাত হয়। এ সময় অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ভবনের ভেতরে থাকা অনেকেই আটকা পড়েন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরাও উদ্ধারকাজে যোগ দেন। পরে ভবন থেকে ২৮ জনকে উদ্ধার করে কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবনটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না।
প্রচণ্ড ধোঁয়ার কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ওপরের তলাগুলোতে পৌঁছাতে বেশ বেগ পেতে হয়। পরে নয়জনকে ক্যালকাটা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে।
ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী ও বেঁচে যাওয়া অতিথি আমিরুল ইসলাম জানান, সাহায্যের জন্য চিৎকার শুনে তাদের ঘুম ভাঙে। পরে চারদিকে ধোঁয়া দেখতে পান। তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের নিরাপদে বের করে আনেন।
ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকায় বেশ কয়েকটি হোটেল রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশি পর্যটক ও চিকিৎসাপ্রার্থীদের নিয়মিত অবস্থান করতে দেখা যায়। ফলে কলকাতার এই অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি নাগরিকদের হতাহতের খবর বিশেষভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এর মাত্র দুই দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠের একটি হোটেলেও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত আটজন নিহত হন। ওই ঘটনায় মেঘালয়ের একটি পরিবারের পাঁচ সদস্যও নিহত হন। পরপর দুটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
পাঠকের মন্তব্য