![]()
ইবি রিপোর্ট
দেশের ব্যবসা ও নৌপরিবহন খাতের প্রবীণ উদ্যোক্তা এবং এমজিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান এম গাজিউল হক মারা গেছেন। সোমবার দুপুর ১টা ১০ মিনিটে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
এমজিএইচ গ্রুপের এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর বিষয়টি জানানো হয়েছে। সোমবার মাগরিবের নামাজের পর রাজধানীর গুলশানের আজাদ মসজিদে এম গাজিউল হকের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
১৯৩৪ সালে জন্ম নেওয়া এম গাজিউল হক স্বাধীনতার আগের সময়েই দেশের ব্যবসা ও নৌপরিবহন খাতে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশের নৌপরিবহন অবকাঠামোর বিকাশে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা ও আন্তর্জাতিক কোম্পানির মধ্যে অংশীদারত্ব তৈরিতেও কাজ করেন।
চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে পড়াশোনা শেষ করে ১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। একই বছর ব্রিটিশ কোম্পানি বার্ড অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডে কর্মজীবন শুরু করেন। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করার পর ১৯৭৬ সালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হন। সে সময় প্রতিষ্ঠানটি বার্ডস বাংলাদেশ লিমিটেড নামে পরিচালিত হতো।
১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে উদ্যোক্তা হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু করেন গাজিউল হক। চট্টগ্রামভিত্তিক নৌপরিবহন প্রতিষ্ঠান অ্যাকোয়ামেরিন লিমিটেডে অংশীদার হিসেবে যুক্ত হন তিনি।
এর প্রায় এক দশক পর অংশীদারের সঙ্গে যৌথভাবে কোপেনহেগেনভিত্তিক নৌপরিবহন প্রতিষ্ঠান মারস্ক লাইনের সঙ্গে উদ্যোগ নিয়ে মারস্ক বাংলাদেশ লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
নৌপরিবহনের পাশাপাশি ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং, আমদানি-রপ্তানি, বিপণন, ব্যাংকিং, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব এবং যৌথ উদ্যোগসহ বিভিন্ন খাতে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন এম গাজিউল হক।
ব্যাংকিং খাতেও তার দীর্ঘ সম্পৃক্ততা ছিল। ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদে ১৯৯৩ সালে যোগ দেন তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় ব্যাংকটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ থেকে ২০০৬ সাল এবং ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
এমজিএইচ গ্রুপের সঙ্গেও এম গাজিউল হকের সম্পর্ক ছিল দীর্ঘদিনের। ১৯৯২ সালে তার ছেলে আনিস আহমেদ এমজিএইচ গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। বাবার নামের আদ্যক্ষর থেকে প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয়। বাংলাদেশভিত্তিক ব্যবসা হিসেবে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী সময়ে সিঙ্গাপুরভিত্তিক বহুজাতিক ব্যবসায়িক গ্রুপে পরিণত হয়।
বর্তমানে ২৬টি দেশে এমজিএইচ গ্রুপের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটিতে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি মানুষ কাজ করেন। লজিস্টিকস, এভিয়েশন, ভ্রমণ, ভোগ্যপণ্য, স্বাস্থ্যসেবা, মোবিলিটি, আতিথেয়তা, অর্থায়ন ও বিমাসহ বিভিন্ন খাতে গ্রুপটির ব্যবসা রয়েছে।
দীর্ঘ ব্যবসায়িক জীবনের পাশাপাশি সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন এম গাজিউল হক। তার মৃত্যুতে ব্যবসা ও নৌপরিবহন খাতে একটি দীর্ঘ কর্মজীবনের অবসান হলো।
পাঠকের মন্তব্য