![]()
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্বীকার করেছেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ শুরুর আগে ইরান কীভাবে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে, তা পুরোপুরি অনুমান করতে পারেনি ইসরাইল কিংবা যুক্তরাষ্ট্র।
CBS-এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান 60 Minutes-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, “আমি নিখুঁত পূর্বাভাসের দাবি করি না, আর কেউই নিখুঁত পূর্বাভাস দিতে পারেনি। ইরানিরাও পারেনি।”
এই মন্তব্য আসে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, নেতানিয়াহু আগে ধারণা করেছিলেন যে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার ফলে তেহরান এতটাই দুর্বল হয়ে পড়বে যে তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করতে পারবে না।
সাক্ষাৎকারে তাকে আরও প্রশ্ন করা হয় গত ১১ ফেব্রুয়ারি এক “সিচুয়েশন রুম” বৈঠকে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নেতানিয়াহু তখন মন্তব্য করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান ইরান সরকারকে পতনের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
তবে ওই দাবিকে “মিথ্যা” বলে উল্লেখ করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, তিনি কখনোই এমন ফলাফল নিশ্চিত বলে দাবি করেননি। তার ভাষায়, “আমরা দু’পক্ষই একমত হয়েছিলাম যে এখানে অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি রয়েছে।”
এ সময় তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, “যেকোনো পদক্ষেপেই ঝুঁকি থাকে, তবে পদক্ষেপ না নেওয়ার ঝুঁকি আরও বড়।”
ইরানি সরকারকে উৎখাত করা সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, এটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তিনি বলেন, “এটা কি সম্ভব? হ্যাঁ। নিশ্চিত কি? না।”
তিনি ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিকে দেউলিয়াত্বের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, একটি রাষ্ট্র কখনো কখনো ধীরে ধীরে দুর্বল হয় এবং একসময় ভেঙে পড়ে।
নেতানিয়াহুর মতে, যদি ইরানের শাসনব্যবস্থা পতিত হয়, তাহলে হিজবুল্লাহ, হামাস এবং হুথি আন্দোলনর মতো আঞ্চলিক মিত্র ও ছায়া গোষ্ঠীগুলোর অস্তিত্বও সংকটে পড়বে। তার দাবি, এসব গোষ্ঠীর মূল ভিত্তি ও সমর্থন কাঠামো হিসেবে কাজ করছে ইরান।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জানান, আগামী এক দশকের মধ্যে ইসরায়েল ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে।
পাঠকের মন্তব্য