
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশে তীব্র এলএনজি সংকটের মধ্যে কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) থেকে গ্যাস সরবরাহ আবারও বন্ধ হয়ে গেছে। এলএনজির মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বুধবার বিকেল ৩টার দিকে টার্মিনালটি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, পাইপলাইনে পর্যাপ্ত এলএনজি না থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে দেশের চলমান গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এর আগে গত ২১ জুলাই একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় টানা ২৫ দিন বন্ধ ছিল এক্সিলারেট টার্মিনাল। মাত্র চার দিন আগে এটি আংশিকভাবে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছিল। তবে এলএনজি মজুদ কমে যাওয়ায় গত সোমবার থেকে সরবরাহ ধীরে ধীরে কমিয়ে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় বুধবার টার্মিনালটির কার্যক্রম আবারও বন্ধ হয়ে যায়।
এলএনজি না আসায় বিপাকে টার্মিনাল
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, কম দামে এলএনজি সংগ্রহের লক্ষ্যে নিয়মিত প্রক্রিয়ার বাইরে সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে চলতি মাসে চারটি এলএনজি কার্গো দেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কোনো কার্গোই দেশে পৌঁছায়নি।
ফলে এক্সিলারেট টার্মিনাল কারিগরিভাবে গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রাখলেও প্রয়োজনীয় এলএনজি না থাকায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস দিতে পারছে না।
এলএনজি আমদানি তদারকির দায়িত্বে রয়েছে পেট্রোবাংলার অধীন রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)।
আগামী কয়েক দিন বন্ধ থাকতে পারে টার্মিনাল
মহেশখালীতে বর্তমানে দুটি এফএসআরইউ রয়েছে। এর মধ্যে এক্সিলারেট টার্মিনালের দৈনিক গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অন্যদিকে সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার একটি এলএনজি কার্গো দেশে আসার কথা রয়েছে। তবে সেটি সামিট টার্মিনালে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্সিলারেট টার্মিনালের জন্য নতুন এলএনজি কার্গো আসতে ২৩ বা ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
সে ক্ষেত্রে আগামী কয়েক দিন এক্সিলারেট টার্মিনাল পুরোপুরি বন্ধ থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ কমেছে
এক্সিলারেট টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব ইতোমধ্যে জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়তে শুরু করেছে। মঙ্গলবার জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহের পরিমাণ ছিল ৬৬০ মিলিয়ন ঘনফুট। বুধবার তা কমে প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে।
একই সময়ে সারা দেশে মোট গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ১৮০ মিলিয়ন ঘনফুট।
এলএনজি সরবরাহে এই ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে গ্যাসের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় টার্মিনালটি বন্ধ থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
পাঠকের মন্তব্য