![]()
ইবি রিপোর্ট
পুঁজিবাজারে সিটি ইন্স্যুরেন্স পিএলসি-র শেয়ারের সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
ডিএসই ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) তালিকাভুক্ত ‘বি-ক্যাটাগরি’র কোম্পানিটির শেয়ারদর ও লেনদেনের ধরন পর্যবেক্ষণের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ৪ অক্টোবর বিএসইসি এ বিষয়ে ডিএসইকে নির্দেশনা দেয়।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি সিটি ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম ছিল ৮৪.৩০ টাকা। ৪ অক্টোবর তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩১.৭০ টাকায়। অর্থাৎ নয় মাসের ব্যবধানে শেয়ারটির দর বেড়েছে ৪৭.৪০ টাকা বা প্রায় ৫৬.২ শতাংশ।
বিএসইসির নির্দেশনায় ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে তদন্তের নির্দেশনা জারির তারিখ পর্যন্ত সিটি ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার লেনদেন পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে। তদন্ত শেষে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে কমিশনের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে ডিএসইকে।
কারসাজি ও ইনসাইডার ট্রেডিং খতিয়ে দেখবে ডিএসই
বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, কোনো বিনিয়োগকারী সমন্বিতভাবে বা কারসাজির মাধ্যমে কৃত্রিম লেনদেনে যুক্ত ছিলেন কি না, তা তদন্তে যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (UPSI) ব্যবহার করে লেনদেন হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে।
নিষিদ্ধ ‘ইনসাইডার ট্রেডিং’ বা অভ্যন্তরীণ তথ্যের অপব্যবহারের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তদন্তে তা চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত স্টক ব্রোকার, স্টক ডিলার এবং তাদের অনুমোদিত প্রতিনিধি বা এআরদের কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হবে।
এ ক্ষেত্রে কমিশনের মার্জিন বিধিমালা, সংশ্লিষ্ট আদেশ, প্রজ্ঞাপন ও নির্দেশনা যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না, তা যাচাই করবে ডিএসই। সন্দেহজনক লেনদেন সংঘটনে সহায়তা বা তা প্রতিরোধে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্রোকার, ডিলার ও এআরদের কোনো ভূমিকা বা দায় রয়েছে কি না, সেটিও নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।
অন্য অনিয়ম থাকলেও ব্যবস্থা
তদন্তের সময় অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক অনিয়ম বা সিকিউরিটিজ-সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের ঘটনা পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার ও ডিলারদের অনুমোদিত প্রতিনিধি, কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের সন্দেহজনক লেনদেন সম্পর্কে সচেতন করার নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।
এ ক্ষেত্রে ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার এবং অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০’ লঙ্ঘনের সম্ভাব্য ঘটনা সম্পর্কেও সংশ্লিষ্টদের সচেতন করতে বলা হয়েছে।
এদিকে তদন্তের প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের জন্য চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকেও নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি। সিটি ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার লেনদেনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ডিএসইকে দিতে হবে সিএসইকে।