
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন ও সংসদ কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংসদীয় দলের সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। ভোট শুরুর পাঁচ মিনিট আগে সরাসরি সম্প্রচার শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভোট দেওয়ার দৃশ্যও সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
চিফ হুইপ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ভোট দেওয়া শেষ হওয়ার পর পুরো ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া রেকর্ড করা হবে। ভোট শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে আবার সরাসরি সম্প্রচার শুরু হবে। এরপর ভোট গণনা এবং ফলাফল ঘোষণার বিষয়টিও সরাসরি দেখানো হবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে যাচ্ছে দেশ। তাই আগামীকাল একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি হবে। এর মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার বঙ্গভবনে শপথ
নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান আগামী শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
তিনি বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকার ও বিরোধী দলকে অন্তর্ভুক্ত করে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
চিফ হুইপ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কীভাবে অনুষ্ঠিত হয়, দেশের মানুষ এবার তা সরাসরি প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাবেন। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
দুই প্রার্থীর মধ্যে হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
অন্যদিকে জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। সংসদ সদস্যরাই ভোট দিয়ে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করবেন।
১৯৯১ সালের পর এবারই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন
১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী—তথ্য অনুযায়ী এমনটি উল্লেখ করা হলেও প্রদত্ত প্রতিবেদনে নাম হিসেবে বদরুল হায়দার চৌধুরীর কথা বলা হয়েছে।
সেই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।
দীর্ঘ সময় পর আবারও রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় এবারের নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ভোটগ্রহণ, গণনা ও ফলাফল ঘোষণার পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বুধবার বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা শুরু হয়। প্রায় ৪০ মিনিটের বৈঠক শেষে সংসদীয় দলের সভায় রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সব প্রস্তুতি শেষে এখন আগামীকাল ভোটগ্রহণের অপেক্ষা। ৩৪৯ সংসদ সদস্যের ভোটে কে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, সেটিই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রধান আলোচ্য বিষয়।
পাঠকের মন্তব্য