![]()
ইবি রিপোর্ট
রাজধানীর সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন সড়ক, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, ঢাকায় অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে একটি নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায়। এ বিষয়ে দ্রুত একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।
মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের খনন ও উন্নয়নকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, অটোরিকশা চলাচল নিয়ে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই নীতিমালা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে রাজধানীতে এসব যান চলাচলের বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হবে।
একই অনুষ্ঠানে ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও তথ্য দেন শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, লেকের খননসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে মোট ৮৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। প্রকল্পের আওতায় লেকের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি নির্মাণ করা হবে ‘নজরুল মঞ্চ’।
‘নজরুল মঞ্চে’ লাইব্রেরি স্থাপনের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ থাকবে। ধানমন্ডির পরিবেশ সংরক্ষণ, এলাকাবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং সামগ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যেই লেকের খনন ও উন্নয়নকাজ করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
অটোরিকশা নিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্যের আগে রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার মালিক ও শ্রমিকদের পক্ষ থেকে আন্দোলনের ঘোষণা আসে। রিকশা বন্ধ বা নির্বিচারে ডাম্পিং করা হলে ঢাকা অবরুদ্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তাদের নেতারা। পাশাপাশি অটোরিকশার চার্জিং পয়েন্টে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করার ঘোষণাও দেওয়া হয়।
আন্দোলনকারীদের দাবি, ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ না করে চালকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বৈধ লাইসেন্স ও রোড পারমিটের আওতায় আনতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা মালিকদের গাড়ি যাচাই করে বৈধতার সুযোগ দেওয়ারও দাবি জানান তারা।
সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকরা বিক্ষোভ ও মিছিল করেন। পরে বিভিন্ন দিক থেকে মিছিল নিয়ে তারা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হন। সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। এতে প্রেস ক্লাব ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভের সময় কাকরাইল মোড়ে সদরঘাট-গাজীপুর রুটে চলাচলকারী ভিক্টর ক্লাসিক গোল্ড সিটি নামের একটি বাসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে বাসের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পথচারীরাও দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করেন।
এ সময় আন্দোলন ছেড়ে অটোরিকশা চালিয়ে সড়ক দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা কয়েকজন চালককে আন্দোলনকারীরা মারধর করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।
এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে নীতিমালার মাধ্যমে অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা এসেছে। ফলে রাজধানীর সড়কে এসব যান চলাচল নিয়ে ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নীতিমালার কাঠামোর মধ্যেই নির্ধারিত হবে।
পাঠকের মন্তব্য