![]()
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের আস্থা অর্জন এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে পুলিশের আস্থার সম্পর্ক গড়ে উঠলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। পুলিশ প্রশাসন কোনো দলের নয়, এটি বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন—এটি নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশ যদি জনগণের কাছে বিশ্বাস ও নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে, সেটিই হবে পুলিশের সাফল্য। পুলিশের সাফল্য মানে সরকারের সাফল্যও।
আজ রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত ‘কল্যাণ প্যারেড’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের কাজ দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হতে হবে আস্থা ও নির্ভরতার। যে কোনো বিপদে মানুষ যেন থানা-পুলিশকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে মনে করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। এই মালিক যখন থানায় আসে, তখন তাদের আচরণে যেন তারা রাষ্ট্রের মালিকানা অনুভব করতে পারে—এটি নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব। সাধারণ মানুষ সাধারণত বিপদে পড়লেই থানায় যায়, তাই সেখানে তাদের অভিজ্ঞতা যেন স্বস্তিদায়ক হয়।
তিনি বলেন, পুলিশ মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রতিনিধির মতো কাজ করে। তাদের দক্ষতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা শুধু আইন প্রয়োগকারী বাহিনী নয়, বরং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে পুলিশকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল, যা একটি অন্ধকার সময় ছিল। এখন সেই পরিস্থিতি পেরিয়ে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক পুলিশ ব্যবস্থা ছাড়া জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।
থানার পরিবেশ এমন হতে হবে যাতে মানুষ কোনো ভয় ছাড়া সরাসরি গিয়ে অভিযোগ জানাতে পারে এবং দ্রুত সমাধান পেতে পারে।
তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা সম্ভব নয়। তাই কমিউনিটি পুলিশিং ও ওপেন হাউস ডে-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণকে আরও সম্পৃক্ত করতে হবে।
মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, নারী ও শিশু নির্যাতন, কিশোর অপরাধ, আর্থিক জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। বিশেষ করে মাদক সরবরাহ ও উৎস ধ্বংসে পুলিশকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের বাস্তবতায় সাইবার পুলিশ ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা বিশ্লেষণসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
তিনি বলেন, সাইবার অপরাধ, আর্থিক জালিয়াতি, সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে উন্নত প্রযুক্তি, ফরেনসিক সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ জরুরি।
মানবাধিকার সমুন্নত রেখে আইনশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, গুম, অপহরণ বা বিচারবহির্ভূত কোনো কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা পুলিশের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে মেধা, দক্ষতা ও সততাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পুলিশ বাহিনীকে আরও আধুনিক ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ, আবাসন, চিকিৎসা সুবিধা ও ঝুঁকি ভাতা বাড়ানোর বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি ও অনিয়মে দুর্বল হয়ে পড়া একটি ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জও রয়েছে। তাই সব অঙ্গীকার তাৎক্ষণিকভাবে পূরণ করা সম্ভব না হলেও ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, অস্ত্রের শক্তির চেয়ে মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও জাতীয় ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। লক্ষ্য একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
পাঠকের মন্তব্য