![]()
ইবি রিপোর্ট
বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালুর জন্য গঠিত ২০ হাজার কোটি টাকার অর্থায়ন কর্মসূচির নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনায় ঋণগ্রহীতার অর্থপাচার ও জালিয়াতিতে জড়িত না থাকার বিষয়ে ঘোষণাপত্র নেওয়া, ঋণের অর্থ নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে লেনদেন এবং ঋণ বিতরণের পর পুনঃঅর্থায়নের আবেদন করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্কিমটির নামেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ সংক্রান্ত সার্কুলার লেটার জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, স্কিমটির কার্যক্রমে গতি আনতে আগের নির্দেশনার কয়েকটি অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আগের নির্দেশনার ভিত্তিতে ২০ হাজার কোটি টাকার ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ গঠন করা হয়েছিল। গত ৪ জুন এ বিষয়ে মূল সার্কুলার জারি হয়। পরে ৭ জুলাই ও ১৭ সেপ্টেম্বর আরও দুটি নির্দেশনা দেওয়া হয়। এবার আগের নীতিমালার কয়েকটি শর্ত সংশোধন করে স্কিমটির নাম রাখা হয়েছে ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এ স্কিমের আওতায় ঋণ পেতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান বা গ্রাহককে অর্থপাচার, জালিয়াতি, তহবিল অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়া কিংবা ঋণের অর্থ অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত না থাকার ঘোষণা দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে গ্রাহকের কাছ থেকে এ বিষয়ে লিখিত ঘোষণাপত্র নিতে হবে।
ঋণের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কোনো প্রতিষ্ঠান যে ব্যাংক থেকে প্রকল্প ঋণ নিয়েছে, সেই ব্যাংক থেকেই এ স্কিমের আওতায় ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। এতে প্রকল্পের ঋণ ও নতুন অর্থায়নের কার্যক্রম একই ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালনার সুযোগ থাকবে।
এ ছাড়া স্কিমের আওতায় দেওয়া ঋণ বা বিনিয়োগের সব লেনদেন গ্রাহকের এসক্রো অ্যাকাউন্ট অথবা রাজস্ব হিসাবে সম্পন্ন করতে হবে। প্রকল্পের আয় যে ব্যাংকে জমা হবে, সেই ব্যাংকে প্রকল্পের আয় হিসাব খোলার বিষয়ে ২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনাও অনুসরণ করতে হবে।
পুনঃঅর্থায়নের আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়মে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ অথবা পর্ষদের অর্পিত ক্ষমতাবলে নির্বাহী কমিটির অনুমোদনের মাধ্যমে ঋণ মঞ্জুর ও বিতরণ করতে হবে। এরপর ঋণ বিতরণের পরবর্তী সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্রসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-৩-এ পুনঃঅর্থায়নের আবেদন করতে হবে।
তবে নির্ধারিত এক সপ্তাহের মধ্যে আবেদন করা সম্ভব না হলে উপযুক্ত কারণ উল্লেখ করে পরবর্তী আরও ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি এবং আগের সার্কুলারগুলোর সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাও পরিবর্তিত বলে গণ্য হবে।
পাঠকের মন্তব্য