![]()
ইবি রিপোর্ট
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রাসায়নিক খাতের কোম্পানি দি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড আয় ও সম্পদ বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। গত কয়েক বছরের আর্থিক পরিসংখ্যানে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ইপিএস অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ঘোষণা করেছে ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, যা কোম্পানিটির তালিকাভুক্তির পর সর্বোচ্চ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে এসব চিত্র উঠে এসেছে।
ডিএসইর ওয়েবসাইটে ২০২১ সাল থেকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মৌলিক আর্থিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ওই তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে দি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৭ টাকা ৪২ পয়সা। পরের বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ টাকা ৯৮ পয়সায়। ২০২৩ সালে ইপিএস ছিল ১০ টাকা ৮৯ পয়সা এবং ২০২৪ সালে ১১ টাকা ৬১ পয়সা।
তবে ২০২৫ সালে কোম্পানিটির ইপিএস কিছুটা কমে ১১ টাকা ৪৮ পয়সায় নেমে আসে। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আবারও আয় বৃদ্ধির ধারা ফিরে আসে। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৬৫ পয়সায়, যা এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির সর্বোচ্চ অর্জন।
ছয় বছরের আর্থিক হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছর ছাড়া বাকি বছরগুলোতে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি আয় বৃদ্ধির হার ছিল ৩৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। পরবর্তী ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা ৯ দশমিক ১২ শতাংশ এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৬১ শতাংশ ছিল। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইপিএস বেড়েছে ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ।
শুধু আয় নয়, শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। ডিএসইর তথ্য অনুসারে, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদের মূল্য (এনএভি) ছিল ১৩৯ টাকা ৩৭ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে, অর্থাৎ ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে এ মূল্য ছিল ১২৬ টাকা ৩৭ পয়সা। এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদের মূল্য বেড়েছে ১০ দশমিক ২৯ শতাংশ।
লভ্যাংশের ক্ষেত্রেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে একমি ল্যাবরেটরিজ। গত ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোম্পানিটির ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ লভ্যাংশ ঘোষণা।
২০১৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকেই কোম্পানিটি ধারাবাহিকভাবে লভ্যাংশ দিয়ে আসছে। তালিকাভুক্তির প্রথম বছর বিনিয়োগকারীদের ৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তী তিন বছরও একই হারে লভ্যাংশ দেওয়া হয়। ২০২০ সালে তা কমিয়ে ২৫ শতাংশ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে গত বছর পর্যন্ত কোম্পানিটির লভ্যাংশের হার ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশের মধ্যে ছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কোনো কোম্পানির মুনাফায় ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক। এতে প্রতিষ্ঠান ও শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ে এবং ভবিষ্যতে বেশি লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়।
তাদের মতে, বর্তমান মন্দা বাজারে মূলধনী মুনাফার সুযোগ সীমিত। এমন পরিস্থিতিতে ভালো নগদ লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করে। সেই বিবেচনায় দি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।