![]()
ইবি রিপোর্ট
একসময় অনলাইন কেনাকাটায় ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে ছিল স্মার্টফোন, ইলেকট্রনিকস ও গৃহস্থালি সামগ্রী। সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলেছে। এখন প্রযুক্তিপণ্যের পাশাপাশি মুদি সামগ্রী, ব্যক্তিগত পরিচর্যার উপকরণ, পোশাক ও সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও অনলাইন কেনাকাটার ঝুড়িতে জায়গা করে নিয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অংশগ্রহণ।
দারাজের ১১.১১ ক্যাম্পেইনের আট বছরের পরিসংখ্যানে ক্রেতাদের পছন্দ ও কেনাকাটার ধরনে এ পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে।
২০১৮ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো দারাজ ১১.১১ আয়োজনের সময় এক দিনে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার অর্ডার পেয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। তখন প্রযুক্তিপণ্য ও গৃহস্থালি সামগ্রীর চাহিদা ছিল উল্লেখযোগ্য। আট বছর পর ২০২৫ সালের ক্যাম্পেইনে মোট বিক্রির অর্ধেকের বেশি হয়েছে ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে। দারাজ অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম থেকে এসেছে মোট বিক্রির ২০ শতাংশের বেশি। একই বছর রংপুর থেকে কক্সবাজারে প্রায় ৬৯০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
প্রযুক্তিপণ্য থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী
শুরুর বছরগুলোতে ইলেকট্রনিকস ও গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি ছিল ১১.১১ ক্যাম্পেইনের মূল আকর্ষণ। ২০২০ সালের আয়োজনে সর্বাধিক বিক্রি হওয়া পণ্যের তালিকায় ছিল পোকো এক্স৩ এনএফসি ও রিয়েলমি সি১২ স্মার্টফোন, শার্পের ওয়াশিং মেশিন, গ্রি এয়ারকন্ডিশনার, স্যামসাং টেলিভিশন এবং ওয়ালটন ল্যাপটপ। ওই বছর ক্যাম্পেইনের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই ১ লাখের বেশি অর্ডার হয়েছিল।
২০২১ সালেও প্রযুক্তিপণ্যের প্রতি আগ্রহ অব্যাহত ছিল। ওই বছরের প্রথম ২২ ঘণ্টায় ৫ লাখের বেশি ক্রেতা প্রায় ৮ লাখ ১০ হাজার অর্ডার করেন। তবে মুঠোফোন, ইলেকট্রনিকস ও গৃহস্থালি সামগ্রীর পাশাপাশি পোশাক ও লাইফস্টাইল পণ্যের জনপ্রিয়তাও বাড়তে থাকে। ২০২২ সালে এক দিনের আয়োজনের পরিবর্তে ১১ দিনব্যাপী কেনাকাটার উৎসব চালু করে দারাজ।
এরপর অনলাইন কেনাকাটার তালিকায় যুক্ত হতে থাকে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় নানা পণ্য। ২০২৩ সালে চাল, তেলের মতো মুদি সামগ্রী, মা ও শিশুর ব্যবহার্য পণ্য, প্রসাধনসামগ্রী এবং ঘর সাজানোর উপকরণের চাহিদা বাড়ে। ওই বছর ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মুদি পণ্য বিক্রি হয়।
২০২৪ সালে এ পরিবর্তনের আরও স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায়। ওই বছর বেশি বিক্রি হওয়া পণ্যের তালিকায় ছিল ডিটারজেন্ট, স্যানিটারি ন্যাপকিন, বডি ওয়াশ, ফোন কভার, ক্যাপ ও মোজা। পোশাক, আসবাব ও ঘর সাজানোর সামগ্রী, মুদি পণ্য, স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যচর্চার সামগ্রী এবং গৃহস্থালি পণ্য—এই পাঁচটি বিভাগে আগের বছরের তুলনায় বিক্রি দ্বিগুণের বেশি বেড়েছিল।
অনলাইন কেনাকাটায় বাড়ছে আঞ্চলিক অংশগ্রহণ
শুধু পণ্যের ধরন নয়, ক্রেতাদের অংশগ্রহণের ভৌগোলিক পরিসরেও পরিবর্তন এসেছে। ২০২৪ সালে দারাজ ১১.১১-এর প্রায় অর্ধেক অর্ডার এসেছিল বড় শহরগুলোর বাইরের এলাকা থেকে। একই বছর মোট লেনদেনের এক-তৃতীয়াংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছিল ব্যাংক কার্ড ও মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে।
২০২৫ সালে ডিজিটাল পেমেন্ট ও কনটেন্টের মাধ্যমে পণ্যের খোঁজ পাওয়ার প্রবণতা আরও বেড়েছে। ওই বছর দারাজ ১১.১১-এর মোট বিক্রির অর্ধেকের বেশি এসেছে ডিজিটাল পেমেন্ট থেকে। অন্যদিকে, দারাজ অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম অবদান রেখেছে মোট বিক্রির এক-পঞ্চমাংশের বেশি।
আট বছরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দারাজ ১১.১১-কে ঘিরে শুধু কেনাকাটার পরিমাণ নয়, বদলেছে পণ্যের ধরন, ক্রেতাদের অংশগ্রহণের পরিসর এবং মূল্য পরিশোধের পদ্ধতিও। একসময় যেখানে মুঠোফোন, ইলেকট্রনিকস ও গৃহস্থালি সামগ্রী ছিল কেনাকাটার তালিকায় উল্লেখযোগ্য, সেখানে এখন মুদি পণ্য, ব্যক্তিগত পরিচর্যার সামগ্রী ও সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসও জায়গা করে নিয়েছে।
১০ নভেম্বর শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের আয়োজন
এ ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের দারাজ ১১.১১ আয়োজন শুরু হবে ১০ নভেম্বর রাত ৮টায়, চলবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত। এবারের আয়োজনে ইলেকট্রনিকস, পোশাক, মুদি সামগ্রী, ব্যক্তিগত পরিচর্যা ও গৃহস্থালি পণ্যে থাকছে বিভিন্ন ছাড় ও বিশেষ অফার।
আয়োজনের অংশ হিসেবে পণ্য কার্টে যোগ করে ওয়ালটন ওয়াশিং মেশিন, বেবি বাইসাইকেল ও হায়ার ওয়াটার হিটার জেতার সুযোগ থাকছে। পাশাপাশি থাকছে স্পিন দ্য হুইল, ব্র্যান্ডভিত্তিক বিশেষ ছাড়, ফ্ল্যাশ ভাউচার ও ফ্ল্যাট ৫০ শতাংশ ছাড়ের নির্দিষ্ট সময়ের অফার। অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয়ের সুযোগও থাকছে।
এ ছাড়া জ্যাকপট প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স (মাস্টারকার্ডের সৌজন্যে), ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর ও মিনিস্টারের স্মার্ট টেলিভিশনসহ বিভিন্ন পুরস্কার জেতার সুযোগ পাবেন ক্রেতারা।
অফারের বিস্তারিত জানা যাবে দারাজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ ও দারাজ অ্যাপে।