![]()
ইবি রিপোর্ট
দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্প্রসারণে সৌরবিদ্যুৎকে আরও এগিয়ে নিতে অর্থায়ন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে স্বল্প সুদের ঋণ, কর ও শুল্ক সুবিধা, গ্রিন বন্ড এবং স্থানীয় ও বিদেশি অর্থায়নের সমন্বয়ের প্রস্তাব এসেছে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে আর্থিক ও নীতিগত বাধা কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। মঙ্গলবার ও বুধবার (৩ ও ৪ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’-এর বিভিন্ন সেমিনারে এসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
‘বাংলাদেশের সোলার বিপ্লবের জন্য নীতি, জনশক্তি ও মূলধন’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বিদ্যুৎ বিভাগ ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) যৌথ উদ্যোগে চারটি বিশেষায়িত সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে সৌরবিদ্যুৎ খাতের বিনিয়োগ, নীতিগত সহায়তা, প্রযুক্তি এবং দক্ষ জনবল তৈরির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্টরা।
‘ফাইন্যান্সিং দ্য সোলার রেভল্যুশন’ শীর্ষক সেমিনারে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থের জোগান বাড়ানোর বিভিন্ন উপায় তুলে ধরা হয়। এ ক্ষেত্রে কর ও শুল্ক প্রণোদনা এবং স্বল্প সুদের ঋণের পাশাপাশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সমন্বয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগের নতুন উৎস হিসেবে গ্রিন বন্ড ব্যবহারের কথাও বলা হয়।
এ ছাড়া কার্বন ক্রেডিট থেকে আয় নিশ্চিত করা, বৈদেশিক মুদ্রার ওঠানামাজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় জাতীয় হেজ ব্যবস্থা চালু এবং ঋণের বিপরীতে জামানতসংক্রান্ত কঠোর বিধিবিধান শিথিল করার বিষয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
অন্য সেমিনারগুলোতে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল (২০২৬–২০৩০) বাস্তবায়নের বিষয়ে সুপারিশ তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক ও কর সুবিধা অব্যাহত রাখা এবং ব্যাটারি স্টোরেজ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ গ্রিডের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।
সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি পেমেন্ট গ্যারান্টি নিশ্চিত করা, ভবনের কাঠামোগত নিরীক্ষা এবং দেশীয় শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়।
অন্যদিকে, বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণে নেট মিটারিং ব্যবস্থা সহজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামের গুণগত মান বজায় রাখা এবং এ খাতে কাজের উপযোগী দক্ষ জনবল তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।
সেমিনারগুলোতে উত্থাপিত সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছে সরকার। সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে যেকোনও ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকার আন্তরিক বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ।
দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’-এ ৮০টির বেশি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্যাভিলিয়ন ও স্টল অংশ নেয়। আয়োজনে পাঁচ শতাধিক কনফারেন্স ডেলিগেট এবং পাঁচ হাজারের বেশি বাণিজ্যিক দর্শনার্থীর অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হয়।