![]()
ইবি রিপোর্ট
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে আয় ও মুনাফা—উভয় ক্ষেত্রেই প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিটি ব্যাংক। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটির কর-পরবর্তী মুনাফা বেড়েছে। পাশাপাশি বৃদ্ধি পেয়েছে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস)। সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে ব্যাংকটির এই অগ্রগতির চিত্র উঠে এসেছে। এ উপলক্ষে বুধবার (৪ নভেম্বর) বিনিয়োগকারী, শেয়ার বিশ্লেষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে অনলাইনে প্রতিবেদনটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিটি ব্যাংকের কনসোলিডেটেড শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ৯৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৪ টাকা ১৩ পয়সা (ডিলিউটেড)। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
একই সময়ে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী মুনাফাও বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে সিটি ব্যাংকের কনসোলিডেটেড প্রফিট আফটার ট্যাক্স বা কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৮৬৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই মুনাফার পরিমাণ ছিল ৭২২ কোটি ১৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা বেড়েছে ১৪৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনলাইন অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভিন্ন আর্থিক সূচক ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। সিটি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মো. মাহবুবুর রহমান আর্থিক প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করেন।
অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসরুর আরেফিন প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক কৌশলগত অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আলোচনা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হোলসেল ব্যাংকিং প্রধান মেসবাউল আসীফ সিদ্দিকী এবং চিফ রিস্ক অফিসার মোহাম্মদ ফিরোজ আলম।
অনুষ্ঠানটি শুধু নির্দিষ্ট কয়েকজন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়, যাতে বিনিয়োগকারী, শেয়ার বিশ্লেষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা এতে যুক্ত হতে পারেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা, কার্যক্রম ও অন্যান্য বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। পরে প্যানেলে থাকা কর্মকর্তারা সেসব প্রশ্নের উত্তর দেন।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে সিটি ব্যাংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও ধারাবাহিক অগ্রগতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ব্যাংকটির আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে এ ধরনের আয়োজন বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে ব্যাংকের আর্থিক কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের ধারণা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।