![]()
ইবি রিপোর্ট
বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্তে নতুন করে আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। চার দিনের রিমান্ডে থাকার পরও হত্যাকাণ্ড-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে গেছেন এবং নীরব থেকেছেন বলে অভিযোগ তদন্ত কর্মকর্তার। এ কারণে তাঁকে আরও সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ আবেদন করেন। বিকেলে আবেদনটির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানান, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৩টার দিকে তিনি তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। পরে তাহসিফ, দীপ এবং মামলার আরেক সন্দেহভাজন আসামি জেরিকা তাসনিম দিশা (১৯) বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেন। একপর্যায়ে দিশা বাসায় ফিরে যান।
এরপর ২৮ অক্টোবর রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তাহসিফ ও দীপ টঙ্গীর মাছের বস্তি এলাকায় পৌঁছান। সেখান থেকে বাজার বস্তির ভেতর দিয়ে তুরাগ নদীর তীরের একটি মাঠের দিকে যাওয়ার সময় কয়েকজন লোককে দেখতে পান তাঁরা। পরে দুজন আলাদা হয়ে যান বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে আরও বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় দীপ ঘটনার বিষয়ে কিছু তথ্য দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে সেগুলো প্রকাশ না করে যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনার আগে তাহসিফের সঙ্গে দীপ ও দিশাকে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করতে এবং রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে দেখা গেছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে তাহসিফকে সর্বশেষ দীপ ও দিশার সঙ্গে দেখা গিয়েছিল।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, দীপকে সঙ্গে নিয়ে সংগ্রহ করা বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি তাহসিফের সঙ্গে নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অবস্থানের সময় দীপ ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য অন্যত্র গিয়েছিলেন। ওই সময়ে তিনি কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তা তদন্ত করে দেখতে চায় পুলিশ।
দীপের ফের রিমান্ড চেয়ে আবেদনে আটটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তাহসিফ, দীপসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) সংগ্রহ ও পর্যালোচনা, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও উদ্দেশ্য উদ্ঘাটন, হত্যার স্থান শনাক্ত এবং আলামত উদ্ধার। এ ছাড়া ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের বিষয়টিও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ৩১ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই মামলায় ১ নভেম্বর তাহসিফের বান্ধবী দিশাকেও চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় মামলা করেন তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। শুক্রবার রাত ১টা ৫ মিনিটে মামলাটি দায়ের করা হয়। পরে দীপকে এ মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
পাঠকের মন্তব্য