![]()
ইবি রিপোর্ট
জ্বালানি ব্যয় কমানো এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাসের লক্ষ্য নিয়ে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার অর্থায়ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। এ তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন, যা পরিশোধের জন্য সময় দেওয়া হবে ১২ বছর। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ডসহ বিদ্যমান সবুজ অর্থায়নের উৎস থেকে প্রাথমিক বরাদ্দের অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ গতকাল টিবিএসকে জানান, সরাসরি কোনো একক প্রকল্পে অর্থ না দিয়ে ছাদে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল), বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করা হবে। প্রাথমিক বরাদ্দ থেকে ইডকল ইতিমধ্যে ৫০০ কোটি টাকা পেয়েছে। প্রয়োজনে পরে আরও ৫০০ কোটি টাকা ছাড় করা হতে পারে।
বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি রুফটপ সোলার প্রকল্পের মোট বিনিয়োগের ২০ শতাংশ দেবেন বেসরকারি বিনিয়োগকারী এবং ২০ শতাংশ ভবনের ছাদের মালিক। বাকি ৬০ শতাংশ অর্থ ঋণ হিসেবে সরবরাহ করবে নির্ধারিত অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান। ছাদের মালিকের আর্থিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণে তাঁদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে চায় সরকার।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ বিভাগ জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর কেন্দ্রের ওপর চাপ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি গ্রীষ্মের লোডশেডিং মোকাবিলায় আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ বিভাগ ও ইডকল ৩ ও ৪ নভেম্বর দুই দিনব্যাপী সোলার এক্সপোর আয়োজন করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ এর উদ্বোধন করেছেন।
কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসির চেয়ারম্যান ইমরান করিম স্বল্প সুদের অর্থায়নকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ১২ বছরের কিস্তি সুবিধা ইতিবাচক হলেও অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার, যথাযথ আদায় এবং গ্রাহকের সুফল নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা দরকার। প্রকল্প বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরির জন্যও তিনি অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানান।
কর্মসূচি সম্প্রসারণে বিশ্বব্যাংক ৫০০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে আগামী মার্চের মধ্যে অর্থ পাওয়ার আশা করছে সরকার। এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকও (এআইআইবি) প্রাথমিকভাবে ৫০০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এ ছাড়া এইচএসবিসি, সিটি ও ব্র্যাক ব্যাংকসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলো প্রায় ৫ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) একাধিক উন্নয়ন সহযোগীকে নিয়ে যৌথ অর্থায়ন প্ল্যাটফর্ম গঠনের আলোচনা শুরু করেছে। এতে প্রাথমিকভাবে ২৫০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে; ভবিষ্যতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যও রয়েছে।
আমদানি করা সোলার প্যানেল, ব্যাটারি ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির মান যাচাইয়ে বিএসটিআই এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) যুক্ত করা হয়েছে। ইডকল নিজস্ব মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে, যা ঋণ অনুমোদনের আগে অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুসরণ করতে হবে। আমদানিকারকদেরও পণ্যের মান নিয়ে অঙ্গীকারনামা দিতে হবে।
নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড বা উৎপাদনকারী দেশের নাম উল্লেখে আইনি বাধা থাকায় সোলার মডিউলের জন্য কঠোর কারিগরি শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। জিনকো সোলার ও লংগির মতো নির্মাতাদের মানদণ্ডকে ভিত্তি ধরা হয়েছে। বিএসটিআইয়ের সক্ষমতা বাড়াতে বিপিডিবির ছয় প্রকৌশলীকে সেখানে সংযুক্ত করে সাত দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সোলার প্যানেলের ক্ষতি মোকাবিলায় বিমা চালুর কাজ করছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তবে চুরির কারণে ক্ষতি হলে তার দায় ভবনের ছাদের মালিককে বহন করতে হবে।