![]()
বাসস
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পদ বাজেয়াপ্তের রায় কার্যকরে পদক্ষেপ নিচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। এ জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। একই ধরনের নির্দেশ থাকা ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য রায়ও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পদ বাজেয়াপ্তের রায় কার্যকরে আজই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের অন্য যেসব রায়ে সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্যও পর্যায়ক্রমে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হবে।
শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্তের রায় কার্যকরের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে লেখা চিঠিতে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর দেওয়া আদেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই রায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই শহীদ পরিবার ও ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া না হলে সেগুলো ভোগ, বিক্রি কিংবা অন্যভাবে হস্তান্তরের আশঙ্কা রয়েছে। এতে ট্রাইব্যুনালের বাজেয়াপ্তসংক্রান্ত আদেশ কার্যকর করা বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় শেখ হাসিনার সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে সেগুলো রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে সম্পদ বণ্টনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই মামলায় রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় দেন। এতে শেখ হাসিনা ও কামালের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা ছিল।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। তাঁদের সবাই পলাতক রয়েছেন।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর ওই রায়ে ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
রায়ে আরও বলা হয়, বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে নিহত ও আহত ব্যক্তি কিংবা তাঁদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এ অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন অথবা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গত ২৯ অক্টোবর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় দেন। এতে চার দণ্ডিত আসামির স্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রির অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন অথবা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার আদেশও রয়েছে।