![]()
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর প্রতি সমর্থন জানিয়ে লন্ডনে মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। শনিবারের এ কর্মসূচি থেকে ১৩৯ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে লন্ডন পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের অনেকেই ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ নাগরিক। তাঁদের হাতে গণহত্যার বিরোধিতা এবং প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের প্রতি সমর্থন জানানো প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, আটক ব্যক্তিদের বড় অংশই নিষিদ্ধ একটি সংগঠনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছিলেন। ঘটনাস্থলে এখনো পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকায় আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের হাতে ‘আমি গণহত্যার বিরোধিতা করি, আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করি’ লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল। দূতাবাসের বাইরের একটি গাছে উঠে এক বিক্ষোভকারী ব্যানারও প্রদর্শন করেন। সেখানে লেখা ছিল, ‘ঈশ্বর আমাদের সহায় হোন। ফিলিস্তিনের সমর্থক শিক্ষকবৃন্দ। প্যালেস্টাইন অ্যাকশন।’
কর্মসূচিটির আয়োজক অধিকার রক্ষা সংস্থা ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরি’ জানিয়েছে, নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত চার হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
সংস্থাটির ভাষ্য, ‘শান্তিপূর্ণভাবে নীরব অবস্থান নিয়ে গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো এবং বিক্ষোভকারী সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করার কারণে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় এ পর্যন্ত ৪,০০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করাটা সত্যি এক চরম ভীতিকর ও দমনমূলক পরিস্থিতির পরিচয় দেয়।’
যুক্তরাজ্য সরকার গত বছর সরাসরি অ্যাকশনভিত্তিক প্রতিবাদী সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে নিষিদ্ধ করে। এই নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, সংগঠনটির সদস্য হওয়া কিংবা এর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এ অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
লন্ডনের পাশাপাশি স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরেও সংগঠনটির সমর্থনে নীরব প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।
স্কটল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের সমর্থনে টি-শার্ট পরা এবং ব্যানার বহন করা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। পুলিশের ভাষ্য, ‘তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী ৪ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টে আপিল হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলো। সংগঠনটির সমর্থকদের দাবি, নিষেধাজ্ঞাটি কঠোর ও অন্যায্য এবং এর মাধ্যমে তাঁদের বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র সরকারও প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করে সংগঠনটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
২০২০ সালে গঠিত প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের মূল লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাজ্যের সামরিক সহায়তা বন্ধ করা। সংগঠনটির দাবি, ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে। তবে ইসরায়েল এ অভিযোগ কঠোরভাবে অস্বীকার করে আসছে।
সংগঠনটির ভাষ্য, ‘ইসরায়েলি সামরিক-শিল্প ব্যবস্থার সাথে যুক্ত কর্পোরেট সহায়তাকারীদের কার্যক্রম ব্যাহত করার মাধ্যমেই তারা এই গণহত্যা প্রতিরোধ করতে চায়।’
২০২৪ সালে সংগঠনটির আন্দোলনকর্মীরা ইসরায়েলি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘এলবিট সিস্টেমস ইউকে’-এর একটি কারখানায় জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। সেখানে হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা হয়।
এরপর ২০২৫ সালের জুনে আন্দোলনকারীরা রয়্যাল এয়ার ফোর্সের একটি বিমানঘাঁটিতে প্রবেশ করেন। সেখানে দুটি ট্যাংকার বিমানের ইঞ্জিনে লাল রং ছিটিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি শাবল দিয়ে আরও ক্ষতিসাধন করেন।
পাঠকের মন্তব্য