![]()
ইবি রিপোর্ট
আগামী তিন মাসের মধ্যে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে শুধু ঢাকা শহর থেকেই ২৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার কথা জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সায়েন্স পলিসি ডায়লগ অন ব্ল্যাক কার্বন অ্যান্ড আদার শর্ট লাইভড ক্লাইমেট পল্যুটেন্টস’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা। ধাপে ধাপে এই সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। এর মাধ্যমে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
তিনি জানান, বর্তমান সরকার আগের সরকারের কাছ থেকে কিছু কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পেয়েছে। এসব কেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন কয়লা পোড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি সারা দেশে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ইটভাটা রয়েছে। এসব উৎস থেকে কী পরিমাণ ব্ল্যাক কার্বন নির্গত হচ্ছে, তা সহজেই অনুমান করা যায়।
ইটভাটা থেকে দেশের মোট বায়ুদূষণের প্রায় ১৩ শতাংশ হয় বলে জানান শেখ ফরিদুল ইসলাম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ভাটায় উচ্চ সালফারযুক্ত কয়লা ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করা ২০০টি ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এর পরিবর্তে কংক্রিট ব্লকের ব্যবহার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে দূষণ কমানো যায়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ খাতে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। এ কারণে উদ্যোগটি বাস্তবায়ন কঠিন হলেও সরকার পেশাদারত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। তাঁর মতে, ইটভাটা বন্ধ করা না গেলে কোনোভাবেই বায়ুর মান উন্নত করা সম্ভব হবে না।
দেশের বায়ুদূষণের প্রায় ৩০ শতাংশ সীমান্ত অতিক্রম করে আসছে বলে উল্লেখ করেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারতের বেশিরভাগ ভারী শিল্পকারখানা সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা এই দূষণ বন্ধ করা বাস্তবে কঠিন।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে বলেও জানান তিনি। এ লক্ষ্যে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও পুনঃখনন এবং বৈদ্যুতিক বাস ও গাড়ি আমদানির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ বায়ুদূষণ কমানোর প্রকৃতিভিত্তিক উপায়।
নদীদূষণ নিয়েও সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি জানান, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, বালু ও ধলেশ্বরী নদীর ৪২৪টিরও বেশি স্থানে দূষণের উৎস শনাক্ত করা হয়েছে। এসব পয়েন্ট দিয়ে কোনো ধরনের শোধন ছাড়াই সরাসরি বিষাক্ত বর্জ্য ও দূষিত পানি নদীতে পড়ছে।
দূষণের উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে শিল্পবর্জ্য, সিটি করপোরেশনের বর্জ্য, ঢাকা ওয়াসা এবং অন্যান্য সেবা সংস্থার নির্গমন। ঢাকার চারপাশের নদী ও জলাশয়গুলো পুনরুদ্ধারে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ড. এ এস এম আব্দুল আওয়াল এবং সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আব্দুস সালাম এবং স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ওরজান গুসটাফসোন।
পাঠকের মন্তব্য