
ইবি রিপোর্ট
এক্সচেঞ্জ হাউস ও আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তর প্রতিষ্ঠান বা আইএমটিওর মাধ্যমে দেশে আসা বৈদেশিক মুদ্রার রেমিট্যান্স এখন নির্দিষ্ট শর্তে বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবেও জমা করা যাবে। এ জন্য ব্যক্তিগত বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব (পিএফসি) এবং অনাবাসী বৈদেশিক মুদ্রা আমানত (এনএফসিডি) হিসাবে রেমিট্যান্স জমার সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-২ এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার আমানতের প্রবাহ সহজ করা এবং গ্রাহকের সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যেই নতুন এ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্সের বিপরীতে পিএফসি ও এনএফসিডি হিসাবে অর্থ জমা করার বিদ্যমান সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে আসা রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে এ সুবিধা প্রযোজ্য। এখন এক্সচেঞ্জ হাউস ও আইএমটিওর মাধ্যমে আসা বৈদেশিক মুদ্রার রেমিট্যান্সও এসব হিসাবে জমা করা যাবে।
এর আগে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত নির্দেশনায় অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে বিদেশের এক্সচেঞ্জ হাউস ও আইএমটিওর সঙ্গে ড্রয়িং ব্যবস্থা স্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমে প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো আয় দেশে আনার ব্যবস্থা রয়েছে। ২০২২ সালের ১০ আগস্টের নির্দেশনা এবং পরবর্তী সময়ে জারি করা সার্কুলারেও এ বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়।
নতুন ব্যবস্থায় এক্সচেঞ্জ হাউস বা আইএমটিওর মাধ্যমে আসা বৈদেশিক মুদ্রা গ্রাহকের পিএফসি ও এনএফসিডি হিসাবে জমা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলো। তবে এ ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ন্ত্রক বিধান পরিপালন করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকের যথাযথ পরিচিতি যাচাই, অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত বিধান এবং বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে দেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত অন্যান্য বিধান অপরিবর্তিত থাকবে। বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ সহজ করার পাশাপাশি প্রবাসী আয় গ্রহণকারী গ্রাহকদের জন্য হিসাব ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোই এ সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।