![]()
ইবি রিপোর্ট
রমজান মাসে বাজারে নিত্যপণ্যের ঘাটতি এড়াতে আমদানিকারকদের জন্য ব্যাংকঋণপত্র খোলার প্রক্রিয়ায় আর্থিক ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চাল, গম, পেঁয়াজ, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মটর, মসলা ও খেজুর আমদানির সময় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া নগদ মার্জিনের পরিমাণ যথাসম্ভব কম রাখতে হবে। একই সঙ্গে এসব পণ্য আমদানির ঋণপত্র খোলার কাজকে অগ্রাধিকার দিতে ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ বিষয়ে একটি সার্কুলার লেটার প্রকাশ করা হয়। দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো চিঠিতে আসন্ন রমজানের বাড়তি চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নির্দেশনাটি জারির দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে। এর মেয়াদ থাকবে আগামী ১৫ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত।
নতুন ব্যবস্থায় আমদানিকারকদের জন্য কোনো অভিন্ন নগদ মার্জিন নির্ধারণ করেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বরং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে গ্রাহকের আর্থিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের ভিত্তিতে মার্জিন ঠিক করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো গ্রাহকভেদে এ হার নির্ধারণ করতে পারবে। তবে নির্ধারিত মার্জিন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দেশের বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত প্রাপ্যতা বজায় রাখার বিষয়টিও নতুন নির্দেশনায় বিবেচনায় এসেছে। এ কারণে তালিকাভুক্ত পণ্যগুলোর এলসি খোলার আবেদন নিষ্পত্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আমদানি মার্জিন নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিতে এর আগেও পরিবর্তন এসেছে। ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জারি করা নির্দেশনায় কয়েকটি পণ্যের ঋণপত্র খোলার বিপরীতে শতভাগ নগদ অর্থ জমা রাখার বিধান ছিল। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর রমজান উপলক্ষে কয়েকটি নিত্যপণ্যের আমদানিতে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে মার্জিন কম রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। সেই সুবিধার মেয়াদ শেষ হয় ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ।
এবার নতুন সার্কুলারের মাধ্যমে একই ধরনের সুযোগ পুনরায় চালু করা হয়েছে। তবে এবারের তালিকায় ১০ ধরনের পণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এগুলো হলো চাল, গম, পেঁয়াজ, ডাল, সয়াবিন ও পাম তেল, চিনি, ছোলা, মটর, মসলা এবং খেজুর।
নগদ মার্জিন কমানোর ফলে আমদানিকারকদের এলসি খোলার সময় নিজস্ব অর্থের প্রয়োজন তুলনামূলক কম হতে পারে। এতে ব্যবসায়ীরা হাতে থাকা অর্থের একটি অংশ অন্য আমদানি কার্যক্রমে ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন। রমজানের আগে বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পণ্য আগাম সংগ্রহের ক্ষেত্রেও এ সিদ্ধান্ত সহায়ক হতে পারে।
তবে ব্যাংকিং প্রক্রিয়ায় ছাড় দেওয়া হলেই বাজারে পণ্যের দাম কমে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আমদানির প্রকৃত পরিমাণ, ব্যাংকগুলোর ঋণপত্র খোলার গতি এবং বন্দর থেকে পণ্য বাজারে পৌঁছানোর সময়ের ওপর সরবরাহ পরিস্থিতি নির্ভর করবে।
তাই আমদানিকারকদের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি পণ্যগুলোর এলসি খোলার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টিও সামনে এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রমজানকেন্দ্রিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমদানি কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি করাই নতুন নির্দেশনার উদ্দেশ্য।
পাঠকের মন্তব্য