![]()
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের পতন ঘটবে বলে দাবি করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারে পরিবর্তন আনতে এখন থেকেই জনগণকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনব্যবস্থা থেকে শুরু করে নাগরিকদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে ক্ষমতাসীন সরকার।
শনিবার ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব মন্তব্য করেন দীপকে।
জেন-জি প্রজন্মের তরুণদের অনলাইন আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া এই নেতা বলেন, সরকার পরিবর্তনের একমাত্র পথ নির্বাচন। এ কারণে দেশে আবারও সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সুরক্ষা দিতে গিয়ে এনডিএ সরকার দেশের তরুণদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন দীপকে। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জ্ঞানেশ কুমার কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ভারতের জাতীয় পতাকা হাতে প্রবেশের অভিযোগে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে নিজের গ্রেপ্তারের ঘটনাও তুলে ধরেন দীপকে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে যেখানেই যাবেন, সঙ্গে জাতীয় পতাকা রাখবেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এই তেরঙ্গা উঁচিয়ে ধরার জন্যই আমাকে গারদের পেছনে পাঠানো হয়েছিল। আমার দুই ভাই সৌরভ ও আশুকেও এটি তোলার জন্য কারারুদ্ধ করা হয়েছিল। ভারতে শেষবার এমন ঘটনা ঘটেছিল যখন আমরা ব্রিটিশদের অধীনে ছিলাম।’’
সরকারের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ
বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের সঙ্গে ব্রিটিশ শাসনের তুলনা করে দীপকে অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার মানুষের মৌলিক স্বাধীনতা সীমিত করার চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষ্য, সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই তরুণ আন্দোলনকারীদের দমন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
গ্রেপ্তারের আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা যদি আমাকে গ্রেপ্তার করতে চান, তাহলে দিল্লি, মহারাষ্ট্র, কেরালা কিংবা তামিলনাড়ু থেকে গ্রেপ্তার করতে পারেন। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকেই আমাকে গ্রেপ্তার করুন না কেন, আমি আবারও ফিরে আসব এবং এই তেরঙ্গা উঁচিয়ে ধরব।’’
কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দ ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও তোলেন এই নেতা। তাঁর দাবি, মানুষ কী খাবেন, কাকে ভালোবাসবেন, কাকে বিয়ে করবেন এবং কাকে ভোট দেবেন, সেসব বিষয়েও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে দীপকে বলেন, ‘‘তারা প্রথমে নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিল আপনারা কী খাবেন, তারপর আপনারা কাকে ভালোবাসবেন ও বিয়ে করবেন, আর এখন তারা এমন এক পর্যায়ে এসেছে যেখানে আপনারা কাকে ভোট দেবেন তাও তারা নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।’’
নির্বাচনী ফলাফল নিজেদের অনুকূলে নিতে এসআইআর প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে ধর্মের ভিত্তিতে সাধারণ মানুষকে বিভক্ত করা এবং রাজনৈতিক স্বার্থে দাঙ্গা উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
আম্বেদকর ও গান্ধীর আদর্শের কথা তুলে ধরলেন দীপকে
বক্তব্যে ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রসঙ্গও সামনে আনেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বলেন, বি আর আম্বেদকর, মহাত্মা গান্ধী এবং জওহরলাল নেহেরুর আদর্শের ভিত্তিতেই দেশটির ভিত্তি গড়ে উঠেছিল।
গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে ভারত অনেকটাই নীরব ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ মানুষের হারিয়ে যাওয়া কণ্ঠস্বর ও সাহস ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করেছে বলে দাবি করেন।
দীপকের ভাষায়, ‘‘বিগত ১০-১২ বছর ধরে দেশ তার নিজের কণ্ঠ হারিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু যন্তর মন্তরে যা ঘটেছিল, তার ফলে হারিয়ে যাওয়া সেই আওয়াজ আবার খুঁজে পেয়েছে দেশ।’’
তরুণদের অরাজকতাবাদী আখ্যা দেওয়ারও প্রতিবাদ জানান তিনি। দীপকে বলেন, ‘‘এ দেশের তরুণদের আপনারা অরাজকতাবাদী বলছেন। কিন্তু না মহাশয়, আমরা কোনো অরাজকতাবাদী নই। আমরা আম্বেদকরপন্থী, আমরা গান্ধীবাদী। আমাদের অরাজকতাবাদী বলার স্পর্ধা দেখাবেন না।’’
আগের সরকার পুরোপুরি নিখুঁত ছিল না স্বীকার করেও দীপকে বলেন, তৎকালীন ভারত অনেক বেশি গণতান্ত্রিক ছিল। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করার স্বাধীনতা ছিল। তাঁর মতে, গণতন্ত্রের প্রকৃত চর্চা এমনই হওয়া উচিত।
রাজেন্দ্র ময়দানে আয়োজিত ওই প্রতিবাদ সভায় বিভিন্ন বয়সের বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। যুব ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারাও এতে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। এর আগে অভিনেতা প্রকাশ রাজের নেতৃত্বে মেরিন ড্রাইভ থেকে রাজেন্দ্র ময়দান পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়েছিল।
পাঠকের মন্তব্য