![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ এ রিট আবেদন করেন।
রিটের ওপর আগামী রোববার শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে এমন আইনি চ্যালেঞ্জ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
৭০ অনুচ্ছেদে কী বলা আছে
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যদের দলীয় অবস্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর যদি তিনি ওই দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তাহলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে।
তবে দলত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার কারণে তিনি পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন না।
রিট আবেদনে এই সাংবিধানিক বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বর্তমান তফসিল স্থগিতের আবেদন জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় নির্ধারিত ছিল।
বৃহস্পতিবারই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এরপর আগামী ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ আগস্ট। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
রিটের শুনানির দিকে নজর
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে একদিকে রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী মনোনয়ন ও মনোনয়নপত্র দাখিলের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে আদালতে রিট দায়ের হওয়ায় নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নতুন আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এখন রিটের ওপর শুনানিতে হাইকোর্ট কী সিদ্ধান্ত দেন, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহল ও সংশ্লিষ্টদের। আদালত যদি রিটের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেন, তাহলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ও পরবর্তী কার্যক্রমেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে রিটের শুনানি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য