
ইবি রিপোর্ট
দোকানে গিয়ে কেনাকাটার পর এখন পিওএস (পয়েন্ট অব সেল) মেশিন ছাড়াই ভিসা কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করা যাবে। একই সঙ্গে বিক্রেতারাও কোনো আলাদা পেমেন্ট টার্মিনাল ছাড়াই নিজেদের স্মার্টফোন ব্যবহার করে গ্রাহকের কাছ থেকে ভিসা কার্ডের লেনদেনের অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।
দেশে ডিজিটাল লেনদেনব্যবস্থাকে আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে ডিজিটাল পেমেন্ট প্রতিষ্ঠান ভিসা এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) যৌথভাবে এই সেবা চালু করেছে। দেশে প্রথমবারের মতো চালু হওয়া নতুন এই প্রযুক্তির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভিসা একসেপ্ট’।
ভিসার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সেবা চালুর ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা অতিরিক্ত কোনো পেমেন্ট টার্মিনাল কেনা ছাড়াই নিজেদের স্মার্টফোনকে পেমেন্ট গ্রহণের যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সেবাটির উদ্বোধন করা হয়। চলতি সপ্তাহ থেকে ইউসিবি অ্যাপের মাধ্যমে বিক্রেতারা এটি ব্যবহার করতে পারছেন।
‘ভিসা একসেপ্ট’ মূলত একটি ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা, যা নির্দিষ্ট অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনকে কার্ড রিডার বা পেমেন্ট গ্রহণের ডিভাইসে পরিণত করে। ফলে ব্যবসায়ীদের আলাদাভাবে পিওএস মেশিন কেনার প্রয়োজন হবে না।
এই সেবার মাধ্যমে গ্রাহক দুটি উপায়ে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। প্রথমত, ভিসা কার্ড বা মোবাইল ফোন বিক্রেতার স্মার্টফোনে ট্যাপ বা স্পর্শ করে। দ্বিতীয়ত, বিক্রেতার পাঠানো নিরাপদ পেমেন্ট লিংকের মাধ্যমে।
গ্রাহক পেমেন্ট সম্পন্ন করলে অর্থ সরাসরি বিক্রেতার ইউসিবি ব্যাংক হিসাবে জমা হবে। যেকোনো ব্যাংক থেকে ইস্যু করা ভিসা কার্ডের গ্রাহকেরা এই সুবিধা ব্যবহার করে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। গ্রাহকের জন্য এ ক্ষেত্রে কোনো অতিরিক্ত চার্জ বা খরচ থাকছে না।
নতুন এই সেবাটি মূলত ছোট ও অনানুষ্ঠানিক খাতের ব্যবসায়ীদের কথা মাথায় রেখে চালু করা হয়েছে। পিওএস মেশিন কেনার খরচ এবং সেটি পাওয়ার প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে অনেক ছোট ব্যবসায়ী এত দিন কার্ড পেমেন্ট গ্রহণের সুযোগ থেকে দূরে ছিলেন।
‘ভিসা একসেপ্ট’ চালুর ফলে মহল্লার ছোট ও মাঝারি দোকানদার, ফেসবুক ও অনলাইনভিত্তিক উদ্যোক্তা, হোম-মেড বা গৃহভিত্তিক ব্যবসা, ফ্রিল্যান্সার, বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী এবং ক্ষুদ্র ও ফুটপাতের বিক্রেতারা বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারবেন।
এতে ব্যবসায়ীদের নতুন কোনো পেমেন্ট ডিভাইস কেনার খরচ ও ঝামেলা কমবে। পাশাপাশি গ্রাহকেরাও নগদ অর্থের পরিবর্তে সহজে কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধের সুযোগ পাবেন।
ডিজিটাল লেনদেনের ফলে ব্যবসায়ীদের বিক্রয়ের রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে। ভবিষ্যতে ব্যাংকিং সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও এসব ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য সহায়ক হতে পারে।
ভিসার কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই সেবার মাধ্যমে গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করতে হলে বিক্রেতার ইউসিবি ব্যাংকে একটি হিসাব থাকতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকের মাধ্যমে ‘ভিসা একসেপ্ট’ সেবার জন্য নিবন্ধন বা এনরোল করতে হবে।
বিক্রেতাদের জন্য একটি সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য হবে। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রচলিত অন্যান্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার তুলনায় এই খরচ তুলনামূলকভাবে কম হবে।
ইউসিবির গ্রাহকেরা ব্যাংকের ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে সহজেই এই সেবার জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন। আবেদন অনুমোদনের পর নিজেদের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে সেবাটি চালু করে পেমেন্ট গ্রহণ করা যাবে।
সেবাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে ইউসিবির কল সেন্টারে যোগাযোগ করা যাবে।
বাংলাদেশে কার্ডভিত্তিক লেনদেন বাড়ানোর ক্ষেত্রে পিওএস মেশিনের খরচ ও প্রাপ্যতা দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় বিষয়। বিশেষ করে ছোট ব্যবসায়ীদের অনেকের পক্ষেই আলাদা পেমেন্ট টার্মিনাল কেনা বা ব্যবস্থাপনা করা কঠিন।
ভিসা ও ইউসিবির যৌথ উদ্যোগ সেই বাধা অনেকটাই কমাতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্মার্টফোনকেই পেমেন্ট গ্রহণের ডিভাইস হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ থাকায় ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য ডিজিটাল লেনদেনে যুক্ত হওয়া আরও সহজ হবে।
এর ফলে একদিকে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমতে পারে, অন্যদিকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক লেনদেন আরও স্বচ্ছ ও ডিজিটাল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
ভিসার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খুব শিগগির দেশের আরও কয়েকটি ব্যাংকও এই ধরনের সুবিধা চালু করতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে কার্ডভিত্তিক ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার পরিধি আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য