![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে জোটের নেতারা উপস্থিত হয়ে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জোটটির অবস্থান স্পষ্ট হলো।
জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা ড. হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেয়। এ সময় প্রতিনিধি দলে মোহাম্মদ কামাল হোসেন, আব্দুল বাতেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান ও মোস্তফিজুর রহমান ইরানসহ শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন অলি আহমদ
১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাওয়া কর্নেল (অব.) অলি আহমদ দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। তিনি এলডিপির চেয়ারম্যান এবং সাবেক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার প্রার্থিতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি ভিন্ন মাত্রা তৈরি হয়েছে। সরকারি দল ও বিরোধী রাজনৈতিক জোট—উভয় পক্ষ থেকেই প্রার্থী দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে অলি আহমাদের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল। এবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলো।
২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এরপর ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ আগস্ট।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট নেওয়া হবে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
সংসদে ভোটে নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। জাতীয় সংসদের সদস্যরা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদে রাজনৈতিক দলগুলোর আসনসংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এবার ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে অলি আহমাদকে প্রার্থী করা হয়েছে। অন্যদিকে সরকারি দলও নিজেদের প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ফলে মনোনয়নপত্র যাচাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর চূড়ান্তভাবে কতজন প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে থাকছেন, সেটি স্পষ্ট হবে।
অলি আহমাদের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় জোটের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাই এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতার দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের পর প্রার্থীদের বৈধতা নিশ্চিত হবে। ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হলে ২০ আগস্ট ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি।
পাঠকের মন্তব্য