![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্ব, উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে, ফলে সংশ্লিষ্ট নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
রোববার (১২ জুলাই) প্রকাশিত এফএফডব্লিউসির সর্বশেষ বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে পর্যবেক্ষণাধীন নদীগুলোর মধ্যে পাঁচটি পয়েন্টে পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বান্দরবানের সাঙ্গু নদী, দোহাজারী পয়েন্ট, কুশিয়ারা নদীর মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ এবং নেত্রকোণার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদী।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগ এবং ভারতের আসাম ও মেঘালয় অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া ও হালদা নদীর পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এফএফডব্লিউসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী এবং ভুগাই-কংস নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়ে কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে এসব নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষ করে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জে কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। একই সময়ে সুরমা নদীর তীরবর্তী নতুন কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে।
অন্যদিকে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়ে কোথাও কোথাও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে উত্তরাঞ্চলের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলেও সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে কিছু এলাকায় স্বস্তির খবরও দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র। আগামী ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমতে পারে। একইভাবে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানিও হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে এসব নদীসংলগ্ন বন্যাকবলিত এলাকায় পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য