ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদনের খসড়া বর্তমানে চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেওয়া হবে।
বুধবার (৮ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পরিচালিত তদন্ত প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রসিকিউশন দ্রুত আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) প্রস্তুত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করবে।
তিনি জানান, বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের অবকাশকালীন ছুটি চলছে। আগামী ২১ জুলাই বিচারিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার পর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলে শাপলা চত্বর মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলায় সম্ভাব্য আসামির সংখ্যা ২৮ থেকে ৩০ জনের মধ্যে হতে পারে। তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন সাবেক প্রধান এবং কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে তিনি স্পষ্ট করেন, তদন্ত প্রতিবেদন এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র ট্রাইব্যুনালে দাখিলের আগে সম্ভাব্য আসামিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হবে না। আদালতের প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রসিকিউশনের আশা, তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার পর মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে যাবে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন হবে।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আইনগতভাবে অভিযুক্ত বা দোষী সাব্যস্ত নন।
পাঠকের মন্তব্য