![]()
দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে নতুন কারিকুলাম, সমন্বিত শিক্ষক নীতিমালা, প্রযুক্তিনির্ভর শ্রেণিকক্ষ এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। এ তথ্য জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে আগারগাঁও তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা, শেখার ঘাটতি দূর করা এবং মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে বিনামূল্যে ইউনিফর্ম বিতরণ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, পুনর্বিন্যাসকৃত কারিকুলাম, শিক্ষক উন্নয়ন নীতিমালা এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গত চার মাস ধরে দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র মূল্যায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজধানীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আধুনিকায়নে চলমান ‘দৃষ্টিনন্দন’ প্রকল্পের আওতায় অবকাঠামোগত চাহিদা ও ঘাটতিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
ববি হাজ্জাজ জানান, বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের শেখার অগ্রগতি যাচাই করা হয়েছে। যারা নির্দিষ্ট বিষয়ে পিছিয়ে রয়েছে, তাদের জন্য বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান কারিকুলামকে আরও সহজ, কার্যকর ও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক করার লক্ষ্যে পুনর্বিন্যাসের কাজ চলছে। পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন (সিপিডি), কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন (কেপিআই), তদারকি ব্যবস্থা এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কাঠামোকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত শিক্ষক নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার আওতায় ভিডিও লেসন, স্মার্ট ক্লাসরুম, ফ্ল্যাট প্যানেল, তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি শনাক্ত করে পুনরায় শেখানোর ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য কেবল বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানে মৌলিক পরিবর্তন আনা। এ লক্ষ্যে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রশাসন, প্রযুক্তি ও কারিকুলামকে সমন্বিত করে কাজ করা হচ্ছে।
এ সময় প্রাথমিক শিক্ষা ঢাকা অঞ্চলের বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আবদুল আজিজ, ঢাকা জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, বিভিন্ন থানার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
পাঠকের মন্তব্য