![]()
লেবাননে ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হওয়ার পর অবশেষে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করলেও যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও সংঘাত পুরোপুরি থামেনি, বরং নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
হিজবুল্লাহর হামলায় চার ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার পর এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। কারণ লেবানন সীমান্তে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা কার্যক্রমকে ঝুঁকির মুখে ফেলছিল। তবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী প্রথমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা জানালেও পরে মুখপাত্র জানান, ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ মোকাবিলায় তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি স্বীকার না করলেও সংগঠনটির মহাসচিব Naim Qassem দাবি করেন, হিজবুল্লাহকে নির্মূল করার ইসরাইলি পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নাবতিয়েহ এলাকার উদ্ধারকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরুর পরও অন্তত ১২টি বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। ফলে ঘোষিত শান্তি উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-এর বিরুদ্ধে বিরল সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন, হিজবুল্লাহবিরোধী অভিযানের আড়ালে নির্বিচারে বেসামরিক মানুষ নিহত হচ্ছে। তেহরানও অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে ওয়াশিংটন তার মিত্র ইসরাইলকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে নতুন হামলা এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী Itamar Ben-Gvir কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেছেন, লেবাননের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi অভিযোগ করেছেন, ইসরাইল ‘স্থায়ী যুদ্ধ’ চায়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সর্বশেষ সংঘাতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৪৭ জন নিহত এবং ৯৭ জন আহত হয়েছেন। বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার তথ্যও সামনে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি আপাতত সংঘাতের গতি কমাতে পারে, কিন্তু ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থানের কারণে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি এখনো অনিশ্চিত। আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও স্থায়ী সমাধান কতটা সম্ভব হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
পাঠকের মন্তব্য