![]()
ইবি রিপোর্ট
কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানখেত থেকে কিশোরী জান্নাতুল তাজমীনের (১৩) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর অলংকার শিল্প এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস। গ্রেপ্তারের পর সুমনকে কুমিল্লা ডিবি পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
গ্রেপ্তার সুমন মিয়ার বয়স ৩৮ বছর। তাঁর বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। তিনি কুমিল্লার বাগমারা দক্ষিণের জয়নগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। প্রায় এক মাস আগে তিনি সেখান থেকে চলে যান। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সুমন মাদকাসক্ত ও বখাটে প্রকৃতির লোক।
অটোরিকশার সূত্র ধরে তদন্ত
এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে জান্নাতুল তাজমীনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া যায়। অটোরিকশাটি জব্দ করে সেটির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা অটোরিকশাটির চালক সুমন। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে চট্টগ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, সুমনের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই এবং তিনি মোবাইল ফোনও ব্যবহার করেন না। এ কারণে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে সময় লেগেছে।
বাবাকে পাঠিয়েছিল লাইভ লোকেশন
নিহত জান্নাতুল তাজমীন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা আবদুল আলীম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত। পরিবারের সদস্যরা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর আগে তাজমীন তার বাবার মোবাইল ফোনে নিজের অবস্থানের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল।
এ ঘটনায় তাজমীনের বাবা আবদুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। মামলাটির তদন্ত চলছে।