![]()
ইবি রিপোর্ট
রাঙামাটির সাজেকে সড়ক অবরোধের কর্মসূচি ৪৮ ঘণ্টার পরিবর্তে অনির্দিষ্টকালের জন্য পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুটি সংগঠন। শনিবার দুপুর থেকে কর্মসূচি শুরুর কথা থাকলেও তা পিছিয়ে আগামীকাল রোববার সকাল ছয়টা থেকে শুরু হবে। পর্যটকদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে সময় পরিবর্তনের পাশাপাশি কর্মসূচির মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠন দুটি।
সংগঠন দুটি হলো সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি। শনিবার দুপুরে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন সময়সূচি ও কর্মসূচির মেয়াদ সম্পর্কে জানানো হয়। এর আগে সংগঠন দুটি শনিবার দুপুর ১২টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছিল।
সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য বিজয় কুমার চাকমার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পর্যটকদের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শনিবারের পরিবর্তে রোববার সকাল ছয়টা থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এবং সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা এক বিবৃতিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের কর্মসূচি পালনে সহযোগিতা কামনা করেছেন। বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, সাজেকে জেএসএস সশস্ত্র তৎপরতা শুরু করেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার সমাবেশ করে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও ব্যবস্থা না নেওয়ায় অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
সংগঠন দুটি সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সাজেকের মাচালং উজো বাজারে বিক্ষোভ ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। ওই কর্মসূচি থেকেই সংগঠন দুটির নেতারা সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেন।
তবে সংগঠন দুটির অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেএসএস। দলটির দাবি, ইউপিডিএফের চাপে পড়ে তারা এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। জেএসএসের প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, ‘শুধু সাজেক নয়, গোটা পার্বত্য চট্টগ্রামেই জেএসএসের সাংগঠনিক কার্যক্রম রয়েছে। কোথাও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এ রকম অভিযোগ আসে না, সাজেকে তোলা অভিযোগও ভিত্তিহীন। সাজেকে নিরীহ জনগণের ওপর দীর্ঘদিন ধরে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের যে নিপীড়ন ও হয়রানি চলছে, সেসব আড়াল করতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।’
অন্যদিকে ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা বলেন, দুটি সংগঠনকে অবরোধ কর্মসূচি দিতে বাধ্য করার অভিযোগ সত্য নয়। তবে সাধারণ জনগণের পক্ষে সংগঠন দুটি যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, তার প্রতি ইউপিডিএফের সমর্থন থাকবে বলে জানান তিনি।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জানান, শুক্রবার রাতেও সেখানে প্রায় তিন হাজার পর্যটক অবস্থান করছিলেন।
এদিকে শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান বলেন, ‘সড়ক অবরোধের কথা শুনেছি। নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতায় সকাল ১০টার দিকে সাজেকে থাকা পর্যটকেরা বাঘাইহাটের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।’
পাঠকের মন্তব্য