![]()
পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা শিগগিরই একনেকের অনুমোদন পাবে এবং বিশেষজ্ঞদের চূড়ান্ত মূল্যায়ন শেষে প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রকল্পকে অগ্রাধিকারভিত্তিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করায় তিস্তাপারের মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শুক্রবার রংপুরের কাউনিয়া এলাকায় তিস্তা সেতু ও তিস্তা নদী তীরবর্তী অঞ্চল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী জানান, তিস্তা নদীকেন্দ্রিক একটি বৃহৎ উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়ন এবং দেশি-বিদেশি কারিগরি সহযোগিতায় পরিচালিত হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুমানিক ১৩ থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। তিনি বলেন, পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে তিস্তা অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব হবে।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, তিস্তা শুধু উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলার সমস্যা নয়, এটি জাতীয় পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ, কৃষি উন্নয়ন, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্পের সুফল শুধু লালমনিরহাট ও রংপুর অঞ্চলের মানুষই নয়, পুরো দেশের অর্থনীতিও পাবে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিস্তাপারের মানুষের দুর্ভোগ দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে একাধিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রাথমিক সমীক্ষা ও কারিগরি বিশ্লেষণের কাজ শেষ হয়েছে এবং নয় সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দল প্রকল্পের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরির কাজ করছে। আগামী দুই থেকে এক মাসের মধ্যেই মহাপরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি শুধু নদীশাসন বা ভাঙন রোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পর্যাপ্ত পানি সংরক্ষণ ও প্রবাহ নিশ্চিত করার স্থায়ী ব্যবস্থাও এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
পরিদর্শন শেষে ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে বিভ্রান্তিকর আলোচনা বা বিতর্ক ছড়ানো হচ্ছে। তিনি তিস্তাপারের মানুষকে এসব বিষয়ে কান না দিয়ে ধৈর্য ধরে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান। তার মতে, সরকারের দৃঢ় উদ্যোগ ও প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তদারকির কারণে তিস্তা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে সফলতা অর্জন সম্ভব হবে।
মতবিনিময়ের পর মন্ত্রী নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যার খোঁজখবর নেন। এর আগে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিভিন্ন কারিগরি বিষয় নিয়ে বৈঠক করেন।
পাঠকের মন্তব্য