![]()
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে ‘সবার বাজেট’ আখ্যা দিয়ে অর্থমন্ত্রী Amir Khasru Mahmud Chowdhury বলেছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী বা বিশেষ শ্রেণির জন্য নয়; দেশের সব মানুষের প্রয়োজন, সম্ভাবনা ও জীবনমানের উন্নয়নকে সামনে রেখেই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে বাজেট ঘোষণার একদিন পর রাজধানীর Osmani Memorial Auditorium-এ আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কৃষক, নারী, শিল্পী, থিয়েটারকর্মী, কামার-কুমার, তাঁতি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাসহ সমাজের এমন কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ নেই, যাদের কথা এবারের বাজেটে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে অর্থনীতিকে আরও গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্য নিয়েই এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা কোনো দলের জন্য বাজেট করি না। এমন কোনো বাংলাদেশি নেই, যিনি এই বাজেটের আওতার বাইরে থাকবেন। প্রত্যেক মানুষের প্রয়োজনকে বিবেচনায় নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।”
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ শুধু প্রশাসনিক অভিযান বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার মাধ্যমে সম্ভব নয়। ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো, অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, বন্দর ও পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতে সংস্কারের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি বিষয়ে তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে বেতন কাঠামোয় বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই নতুন বেতন কাঠামোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কর্মসংস্থান নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বাজেটে নির্দিষ্ট চাকরির সংখ্যা উল্লেখ না থাকলেও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে পারলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় বাজারেই কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে এবারের বাজেটে দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় বিনিয়োগ করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্য ও আয় বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’কে বাজেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, গ্রামীণ কারুশিল্প, তাঁত, শীতলপাটি, সংগীত, চলচ্চিত্র, থিয়েটারসহ সৃজনশীল খাতগুলোকে অর্থনীতির মূলধারায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব খাতে দক্ষতা উন্নয়ন, অর্থায়ন ও বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে Bangladesh Bank-এর গভর্নর Md. Mostakur Rahman জানান, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। আমানতকারীদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় তারল্য সহায়তা দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সরকারের ‘স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্স’ কাজ করছে এবং আগামী ১ জুলাই থেকে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হবে, যার মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ ও বিস্তৃত হবে।
অন্যদিকে, National Board of Revenue-এর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, এবারের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। জমি কেনাবেচার প্রকৃত মূল্য ঘোষণার বিধান করদাতাদের হয়রানি কমানোর উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে।
বাজেট বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু ঘোষণা নয়, বাস্তবায়নের ওপরও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ব্যবসা সহজীকরণে ঘোষিত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ওয়েবসাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ব্যবসা খাতে ঘোষিত বিনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ৮০ শতাংশও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পূর্ণ নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছাবে।
পাঠকের মন্তব্য