![]()
চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে সরকারের উন্নয়ন বাজেট বা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে আবারও ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, জুলাই–মার্চ সময়ে মোট ব্যয় হয়েছে ৭৫,৬০৭ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭,২৮৭ কোটি টাকা কম।
আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ৩৬.১৯ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের ৩৬.৬৫ শতাংশের চেয়েও সামান্য কম এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় অনেক পিছিয়ে, যখন বাস্তবায়ন হার ছিল ৪২.৩০ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির আকার ২,০৮,৯৩৫ কোটি টাকার বেশি।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক অস্থিরতা, প্রকল্প পরিচালক ও ঠিকাদার পরিবর্তন, এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় ধীরগতির কারণে উন্নয়ন কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক প্রকল্পে পুনর্মূল্যায়ন ও সংশোধন চলায় কাজ শুরু ও বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় ১,৩০০ প্রকল্প যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় আনা হয়েছে, যা উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি আরও ধীর করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদে উন্নয়ন পরিকল্পনাকে আরও বাস্তবসম্মত করতে পারে, তবে স্বল্পমেয়াদে বাস্তবায়নের হার বাড়ার সম্ভাবনা কম।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্বাস্থ্য, রেল এবং প্রাথমিক শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম। অন্যদিকে কৃষি, বিদ্যুৎ, স্থানীয় সরকার ও জ্বালানি খাতে ব্যয়ের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে সামগ্রিকভাবে অধিকাংশ বড় মন্ত্রণালয়ই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার নিচে রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের এই ধীরগতি দীর্ঘমেয়াদে অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তারা এটিও মনে করছেন যে, প্রকল্প যাচাই-বাছাই ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে ব্যয়ের গুণগত মান উন্নত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য