![]()
দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন শিশু সরাসরি হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে, আর বাকি ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২ জন এবং সিলেট বিভাগে ১ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। অন্যদিকে, উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ৪ জন শিশুই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা।
একই সময়ে নতুন করে ১৭২ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১ হাজার ২১৫ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় ৮৬০ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৬৩ জন শিশু ঢাকা বিভাগের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চিকিৎসা শেষে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৯৯ শিশু হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই রয়েছে সর্বোচ্চ ৩৭৩ জন।
গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে মোট ৪২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি, হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৯৮ জন শিশু। একই সময়ে মোট ২৯ হাজার ৫৪৯ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এর মধ্যে ১৯ হাজার ৭০৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ৪ হাজার ২৩১ শিশুর শরীরে হাম নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
Writing
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে এই নির্বাচন বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, বেকারত্ব ও প্রশাসনিক অরাজকতার মতো অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনার মুখে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধীরা দাবি করছে—এই নির্বাচনেই পরিবর্তনের সময় এসেছে। অন্যদিকে তৃণমূল বলছে, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং জনগণ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা চায়।
২০১১ সালে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনো পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মুখ। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার সরকারের ওপর চাপও বেড়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ ও প্রশাসনিক বিতর্ক রাজ্যের রাজনীতিকে জটিল করে তুলেছে।
এই নির্বাচনে তৃণমূলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে শক্ত অবস্থান নিয়েছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। বিজেপি “পরিবর্তন” স্লোগান সামনে এনে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে তৃণমূল উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং গ্রামীণ ভিত্তির ওপর নির্ভর করে নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের গ্রামাঞ্চলে এখনো তৃণমূলের সংগঠন শক্তিশালী, যা নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
ভোটের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক। রাজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলিম ভোটার বহু আসনে নির্ধারক ভূমিকা রাখে। তবে এই ভোট কতটা একপাক্ষিক থাকবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
ভোটারদের মধ্যেও বিভক্তি স্পষ্ট। একদল এখনো মমতার ওপর আস্থা রাখছে, অন্যদিকে আরেকটি অংশ পরিবর্তন দেখতে চায়। অনেকেই বলছেন, দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও দৃশ্যমান উন্নয়নই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন এক অনিশ্চিত সমীকরণের দিকে এগোচ্ছে। এটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বড় পরীক্ষা হলেও ফলাফল আগাম বলা কঠিন। শেষ পর্যন্ত ভোটবাক্সই নির্ধারণ করবে—রাজ্যে ‘দিদির’ শাসন অব্যাহত থাকবে, নাকি পরিবর্তনের নতুন অধ্যায় শুরু হবে।
পাঠকের মন্তব্য