![]()
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আবারও নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) প্রকাশিত এক লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ডেপুটি ইসমাইল সাকাব ইস্ফাহানি স্পষ্টভাবে জানান—ইরানের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রস্তুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
তিনি বলেন, “আমাদের কোনো তেলকূপে আঘাত করা হলে আমরা সৌদি আরবের কোনো একটি তেলক্ষেত্রকে লক্ষ্যবস্তু বানাবো এবং তার জবাব দেব।”
ইরানি এই কর্মকর্তা আরও জানান, তাদের প্রতিক্রিয়া কৌশল শুধু প্রতিশোধমূলক নয়, বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী তা আরও কঠোর হতে পারে। তিনি এটিকে “সিঁড়ি” হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, যেখানে উত্তেজনা বাড়লে হামলার মাত্রাও বৃদ্ধি পাবে।
এর আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, সেই সময় ইরানি বাহিনী সৌদি আরবসহ একাধিক দেশের জ্বালানি ও বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায়।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির পেছনে ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বড় ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের অবস্থান নিয়েও নানা দাবি-অভিযোগ উঠেছে। যদিও তিনি প্রকাশ্যে যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন, কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে—মার্কিন নীতিনির্ধারকদের ওপর ইরানের বিরুদ্ধে চাপ তৈরির পেছনে তার প্রভাব ছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা কোনো বড় হামলার মুখে পড়লে বৈশ্বিক বাজারেও এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য