![]()
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, দেশের মানবাধিকার কমিশন, গুম কমিশন এবং জুলাই সনদ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে, যা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিএনপি তাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে বাস্তবায়ন করবে।
শুক্রবার দুপুরে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির নতুন ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা থাকলেও অতীতে সুপ্রিম কোর্ট তার স্বকীয়তা পুরোপুরি বজায় রাখতে পারেনি। তার অভিযোগ অনুযায়ী, বিগত সরকারের সময়ে বিচার বিভাগ রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত ছিল না এবং অনেক ক্ষেত্রে আদালত রাজনৈতিক কর্মীর মতো আচরণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পৃথক বিচার বিভাগ সচিবালয় আইন, মানবাধিকার কমিশন আইন, গুম কমিশন আইন এবং জুলাই সনদ আইন পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। এসব আইন সংসদে উত্থাপনের আগে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করা হবে যাতে ভবিষ্যতে কোনো অনিয়ম বা প্রশ্নের সুযোগ না থাকে।
আইনমন্ত্রী বলেন, “আমরা একটি স্বচ্ছ ও নৈতিক বিচার ব্যবস্থা চাই। ইন্টেলেকচুয়াল দুর্নীতির পথ বন্ধ করতে হবে।”
দেশের রাজনৈতিক বিভক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা ৭১ এবং ২৪ নিয়ে কোনো বিভাজন চাই না। সবাইকে বিভক্তির রাজনীতি থেকে বের হয়ে বাংলাদেশি চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
তিনি দাবি করেন, বর্তমানে দেশে ক্রসফায়ার, গুম এবং মিথ্যা মামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে এবং সরকার জনকল্যাণে কাজ করছে। এসব অর্জন জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বানও জানান তিনি।
সভায় আইনমন্ত্রী যশোর কোর্টের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার এবং বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি বার কাউন্সিলের মাধ্যমে আইনজীবীদের জন্য মৃত্যুর পর আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, জেলা জজ মাহমুদা খানম এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ অনেকে।
পাঠকের মন্তব্য