![]()
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, আগামী ১৪ এপ্রিল বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যের উৎসব ‘পহেলা বৈশাখ’ উদ্যাপন উপলক্ষে রাজধানীতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো জঙ্গি হামলা বা নাশকতার সুনির্দিষ্ট হুমকি না থাকলেও সতর্কতার অংশ হিসেবে বিস্তৃত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে রমনা ও আশপাশের এলাকাকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখা হয়েছে। গতকাল রমনা পার্কে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, নববর্ষ উদ্যাপনে রমনা পার্ক, শিশু পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাহাদুরশাহ পার্ক, মিরপুর শাক্যমুণি বৌদ্ধ বিহার, রবীন্দ্র সরোবর ও হাতিরঝিলসহ বিভিন্ন স্থানে মানুষের ব্যাপক সমাগম হবে। যাতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই নিরাপদে উৎসবে অংশ নিতে পারেন, সেজন্য ডিএমপি একটি সুসংগঠিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বৈশাখী শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন আয়োজনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে পুরো মহানগরীকে ৯টি সেক্টর ও ১৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সোয়াট, মাউন্টেড পুলিশ, কে-৯ ইউনিট, ক্রাইম সিন ভ্যান, ডিবি ও সিটিটিসি সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।
রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাকে ঘিরে ১৪টি স্থানে ব্যারিকেড স্থাপন করা হবে। প্রতিটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে ও হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া নিরাপত্তা সমন্বয়ের জন্য অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে এবং রমনা পার্ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার’ চালু থাকবে।
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, নিরাপত্তা তল্লাশিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে। কোনো ধরনের মুখোশ, ব্যাগ, ধারালো বস্তু বা দাহ্য পদার্থ অনুষ্ঠানস্থলে আনা যাবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে এবং কোনো ধরনের ফানুস, আতশবাজি বা শব্দদূষণকারী সামগ্রী ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।
পাঠকের মন্তব্য